Durga Puja 2026 | মাটির হাঁড়িতে আলোর খেল আর রামায়ণের দৃশ্যপট, ১৯তম বর্ষে বাউল করুণাময়ী সংঘের পুজোয় দারুণ চমক

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন
শারদোৎসব ২০২৬

প্রতি বছরই নতুন ভাবনায় দর্শকদের আকর্ষণ করে করুণাময়ী সংঘের দুর্গোৎসব। এবারও মণ্ডপের সামনের অংশে মাটির হাঁড়ি দিয়ে তৈরি হচ্ছে অভিনব থিম। মণ্ডপের ভিতরে ফুটিয়ে তোলা হবে রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনী। লিখেছেন বিশ্বজিৎ প্রামাণিক। 

পতিরাম: শরতের নীল আকাশে মেঘের ভেলা, বাতাসে উৎসবের গন্ধ। তার মধ্যে বাউল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এখন সকাল থেকে রাত—ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কোথাও বাঁশের কাঠামো, কোথাও রংতুলির কাজ, আবার কোথাও থিমের উপকরণ নিয়ে শিল্পীদের ব্যস্ততা। পুজো (Durga Puja 2026) আসতে এখনও দিনকয়েক বাকি। কিন্তু বাউল করুণাময়ী সংঘের মণ্ডপে যেন ইতিমধ্যেই বেজে উঠেছে আগমনী সুর। উনিশ বছরে পা দেওয়া এই পুজোয় এবার দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে রামায়ণের নানা পৌরাণিক কাহিনী।

প্রতি বছরই নতুন ভাবনায় দর্শকদের আকর্ষণ করে করুণাময়ী সংঘের দুর্গোৎসব। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মণ্ডপসজ্জায় থাকছে বিশেষ চমক। মণ্ডপের সামনের অংশে মাটির হাঁড়ি দিয়ে তৈরি হচ্ছে অভিনব থিম। প্রতিটি হাঁড়ির ভিতরে থাকবে নানা রঙের আলো। সন্ধ্যা নামতেই সেই আলোর খেলায় বদলে যাবে মণ্ডপের পরিবেশ। মণ্ডপের ভিতরে ফুটিয়ে তোলা হবে রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনী ও পৌরাণিক দৃশ্য। শিল্পী বাবলু কর্মকারের তত্ত্বাবধানে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। বাঁশ, কাপড়, মাটি ও নানা উপকরণ মিলিয়ে ধীরে ধীরে আকার নিচ্ছে মণ্ডপ। উদ্যোক্তাদের আশা, মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শকদের সামনে একে একে জীবন্ত হয়ে উঠবে রামায়ণের পরিচিত কাহিনীগুলি। শুধু মণ্ডপ নয়, প্রতিমাতেও থাকছে শিল্পের ছোঁয়া। পতিরামে নিজের বাড়িতেই প্রতিমা তৈরি করছেন মৃৎশিল্পী মনতোষ মহন্ত। পুজোর কয়েক দিন আগে প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে আসা হবে। আলোকসজ্জাতেও থাকছে বিশেষ পরিকল্পনা। আলোকশিল্পী চন্দন রায়ের ভাবনায় নানা রঙের আলোয় সাজবে মণ্ডপ।

পুজোকে ঘিরে থাকবে নাচ, গান, আবৃত্তি সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণ ও সামাজিক কর্মসূচিরও আয়োজন রয়েছে। করুণাময়ী সংঘের এই পুজো ইতিমধ্যেই বাউলের গণ্ডি পেরিয়ে আশপাশের গ্রামগুলির মানুষেরও অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পুজোর কয়েকটি দিন তাই বাউল বাসস্ট্যান্ড চত্বর হয়ে ওঠে মিলনমেলা। ক্লাবের পক্ষ থেকে মুরারিমোহন সরকার বলেন, ‘উনিশতম বর্ষে আমাদের পুজো আশপাশের গ্রামের মানুষেরও উৎসব হয়ে উঠেছে। এবার রামায়ণের কাহিনী ও অভিনব আলোকসজ্জার মাধ্যমে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে।’

পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই ঘন হচ্ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। বাউল এখন অপেক্ষা করছে সেই সন্ধ্যার, যেদিন আলোয়-আবহে শুরু হবে উনিশতম করুণাময়ী সংঘের দুর্গোৎসব।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *