সমীর দাস, হ্যামিল্টনগঞ্জ: টোটোপাড়ায় বাস টোটো জনজাতির। তবে তাঁদের সম্পর্কে সবটা জানে ক’জন। তাঁদের খাদ্যাভ্যাস, দৈন্যন্দিন জীবনযাপন ঠিক কেমন? তাই সেই কথা মাথায় রেখে এবার হ্যামিল্টনগঞ্জের (Hamiltonganj) অগ্রগামী সংঘ তাঁদের ৩২তম বর্ষে মণ্ডপে তুলে ধরতে চলেছে আদিম টোটো জনজাতির জীবনযাপন। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মণ্ডপে ফুটে উঠবে টোটোদের ইতিহাস। তাঁদের চাষবাস, ঐতিহ্যবাহী ঘরবাড়ি, তাঁদের লোকাচার সবকিছু তুলে ধরা হবে। মণ্ডপের ভেতরে থাকবে টোটোদের হাতে তৈরি জিনিসপত্রের প্রদর্শনী। থিমের পাশাপাশি দেবী মূর্তিও তৈরি হচ্ছে আকর্ষণীয়ভাবে। প্রতিমার পোশাকেও থাকবে সেই ছোঁয়া। এবার দেবী মূর্তি আনা হবে দিনহাটা থেকে।
একই সঙ্গে এবছর ক্লাবের ৫০ বছর পূর্তি। তাই এবারের পুজোকে (Durga Puja 2026) ঘিরে উৎসাহ উদ্দীপনা আরও বেশি। বর্তমানে হ্যামিল্টনগঞ্জের সার্কাস ময়দানে চলছে জোরকদমে মণ্ডপ তৈরির কাজ। টোটোপাড়া কালচিনি ব্লকের প্রতিবেশী মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের অংশ। কিন্তু তাঁদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। সেই কথা মাথায় রেখেই এমন উদ্যোগ বলছেন ক্লাবের সদস্যরা।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শিবম সূত্রধর বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছি। টোটোপাড়া থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আমাদের মণ্ডপে টোটোদের চাষের পদ্ধতি, তাদের ঘর কীভাবে তৈরি হয়, তাদের সামাজিক রীতি সবকিছু মডেলের মাধ্যমে দেখানো হবে। বিগত চার বছর ধরে প্রশাসনের তরফে কালচিনি ব্লকের শ্রেষ্ঠ পুজোর খেতাব পেয়েছে আমাদের পুজো। এবছরও আমরা আশাবাদী, আমাদের এই অভিনব থিম প্রশাসন ও দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে এবং শ্রেষ্ঠ পুজোর শিরোপা আবারও আমরা পাব।’
পুজো উপলক্ষ্যে তিনদিন ধরে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি টোটো জনজাতির শিল্পীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। নবমীর দিন খিচুড়ি ভোগ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় দুশো দুঃস্থ মানুষকে নতুন বস্ত্র দেওয়া হবে ক্লাবের তরফে। ক্লাবের সম্পাদক গোবিন্দ বাগচী বলেন, ‘অগ্রগামী সংঘ শুধু একটি ক্লাব নয়, এটা আমাদের আবেগ। এবছর আমাদের ক্লাবের ৫০ বছর পূর্ণ হল। তাই এবারের পুজোটা খুব স্পেশাল। টোটোরা আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের গর্ব। তাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। যেহেতু টোটো জনজাতির জীবনশৈলী এবছরের থিম, সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি টোটো জনজাতির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করানোর। এটা হবে আমাদের তরফে তাঁদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন।’ ওই পুজোকে ঘিরে স্থানীয়রা খুব উৎসাহী। উলু, শঙ্খ, কাঁসর- ঘণ্টা বাজিয়ে মাকে বরণ করতে এলাকার মহিলারা এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

