উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fireplace) ৩২ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Basu)। পুড়ে যাওয়া গোডাউনটিকে ‘জতুগৃহ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সেখানে কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। এই ঘটনায় মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এত বড় কারখানায় কেন ‘ফায়ার অডিট’ হয়নি? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে কিছুটা মেজাজ হারান মন্ত্রী। পরে তিনি জানান, “রাজ্যে অনেক কারখানা লাইসেন্স নিয়ে চলে, আবার অনেকে বেআইনিভাবে চালায়। এই গোডাউনের কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” জলাশয় বুজিয়ে কারখানা তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দায় ঠেলেছেন ভূমি দপ্তরের দিকে।

দমকলমন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম আসবে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত হবে। সোমবার থেকে নিখোঁজ মালিকের এখনও কোনও হদিস মেলেনি। উদ্ধারকাজে দেরি হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রীর ব্যাখ্যা, কারখানার ভেতরে প্রচণ্ড উত্তাপ এবং জটিল নির্মাণের কারণে রাতে ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি। লোহা গলিয়ে দেওয়ার মতো সেই ভয়াবহ তাপে নিখোঁজদের বেঁচে থাকার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে।

বর্তমানে দগ্ধ গোডাউনে উদ্ধারকাজ চলছে। ভেতরের ধ্বংসস্তূপ থেকে পোড়া হাড়ের টুকরো মিলছে বলে জানা গেছে। এদিকে কারখানার বাইরে এখনও নিখোঁজ ২৫ জন শ্রমিকের পরিজনরা অধীর অপেক্ষায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। প্রশাসনের নজরদারির অভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

