Raiganj College | শূন্যপদ পূরণে জোর, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো বদলের সিদ্ধান্ত বাতিল

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর অবশেষে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Raiganj College) অনুষ্ঠিত হল এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের (ইসি) বৈঠক। আর সেই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৮ জন স্থায়ী শিক্ষাকর্মী এবং দীর্ঘদিন শূন্য থাকা ৬৩টি শিক্ষক পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে। সেইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো বদলের যে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে বৈঠকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো যাতে না বদলায়, সেজন্য গত কয়েকদিন ধরে প্রাক্তনীরা দফায় দফায় আন্দোলন করেছেন। এদিন ইসি বৈঠকে লোগো পরিবর্তনের প্রস্তাব খারিজ হওয়ায় খুশি তাঁরা। রায়গঞ্জ কলেজ প্রাক্তনী সমিতির সম্পাদক পীযূষকুমার দাস বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী লোগো অপরিবর্তিত রাখার দাবি পূরণ হয়েছে।’ তবে লোগোতে কলেজ প্রতিষ্ঠার সাল ১৯৪৮ উল্লেখ করার দাবি তাঁরা বজায় রাখবেন বলে তিনি জানান।

বুধবার কর্ণজোড়ায় (Karnajora) উপাচার্যের বাংলোয় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে সেই ম্যারাথন বৈঠক। সেখানে মোট ৫৭টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ও একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেখানেই দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো পরিবর্তনের প্রস্তাবও খারিজ করেছে ইসি। পুরোনো লোগোটিই যথাযথ বলে মনে করেছে কাউন্সিল।

২০১৫ সালে রায়গঞ্জ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর আর স্থায়ী শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হয়নি। ২০১৯ সালে বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে নেওয়া আবেদনপত্রগুলি বাতিল করে নতুন রোস্টার তৈরি করে ফের আবেদনপত্র নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সে পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। তাঁদের অবসরের পর এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি মেডিকেল ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৩টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুত সেই পদগুলিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এজন্য নতুন করে রোস্টার তৈরি করে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে।

বৈঠকে সিএজি রিপোর্ট অনুমোদন, শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রণব ঘোষ কমিটির রিপোর্ট অনুমোদন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকা শিক্ষক অচ্যুতমোহন রায় চৌধুরীর বরখাস্তের বিষয় নিয়ে কমিটি গড়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী বছর ৩ অগাস্ট প্রতিষ্ঠা দিবসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুলিক পক্ষীনিবাসকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাগার তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার বলেন, দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং একাধিক বিষয়ে সমাধানসূত্র বের করে রেজোলিউশন নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপাচার্য অর্ণব সেন, রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার, ডিনেরা, রাজ্যপালের মনোনীত সদস্য অধ্যাপক নিখিলেশচন্দ্র রায় ও অধ্যাপক সৌমব্রত আচার্য, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নমিনি রবীন্দ্র দে, সিনিয়ার স্পেশাল সেক্রেটারি চন্দ্রাণী টুডু সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা ছিলেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *