Durga Puja 2026 | একই পরিবারে ১৬টি দুর্গোৎসব! কালিয়াচকের রামনগর মণ্ডল বাড়ির এই পুজো তাক লাগাচ্ছে সবাইকে

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন
শারদোৎসব ২০২৬

সেনাউল হক, কালিয়াচক: কালিয়াচকের (Kaliachak) রামনগর গ্রামে একই পরিবারের ১৬টি দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026) হয়! ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বালিয়াডাঙ্গা মোড় থেকে গোলাপগঞ্জ রাজ্য সড়ক ধরে বাঁ দিকের রাস্তা দিয়ে প্রায় ছ’-সাত কিলোমিটার গেলে পৌঁছানো যায় এই রামনগর গ্রামে। কালিয়াচক থানার আকন্দবাড়িয়া পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রামের মানুষ যেখানেই থাকুন, শরতে ঢাকে কাঠি পড়লেই ঠিকই ফিরে আসেন। কারণ, এই গ্রামের মণ্ডল পরিবারের প্রতিটি বাড়িতেই মহা ধুমধামে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়।

একসময় ছিল একটি পরিবার। পরিবারের কর্তা দুর্গাপুজো করার স্বপ্নাদেশ পান। তারপর থেকে পরিবার যত ভাগ হয়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে পুজোর সংখ্যাও। বর্তমানে এই মণ্ডল পরিবারে অনুষ্ঠিত হয় ১৬টি দুর্গাপুজো। প্রতিটি পরিবারের কুলদেবতা দেবী দুর্গা। এবছর অবশ্য পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুঘটিত কারণে আটটি ঘরে পুজো বন্ধ রয়েছে। বাকি আটটি পরিবারে এখন পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে।

পরিবারের সদস্য সুশীলকুমার মণ্ডল বলেন, মণ্ডল পরিবারের এই পুজো শুরু হয়েছিল তাঁদের বাড়িতেই। সময়ের সঙ্গে সেই পুজো এখন একাধিক পরিবারে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমার প্রপিতামহ মংলু মণ্ডল মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেছিলেন। যদিও তার প্রামাণ্য কোনও নথি আমাদের কাছে নেই। সেই হিসাবে এই পুজো ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের পরিবারে চলছে। পরবর্তীতে আমার ঠাকুরদা মধুলাল মণ্ডল, তাঁর বাবা নরেশচন্দ্র মণ্ডল মায়ের পুজো চালিয়ে গিয়েছেন। এখনও আমাদের প্রতিটি পরিবারে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়।’ পরিবারের আরেক সদস্য সুকুমার মণ্ডল বলেন, তাঁদের পুজোয় বলিপ্রথা চালু রয়েছে। মহাসপ্তমী, সন্ধিপুজো আর মহানবমীতে ছাগবলি দেওয়া হয়। তবে তাঁরা এখন ধীরে ধীরে বলিপ্রথা বন্ধ করার কথা ভাবছেন।

মণ্ডল পরিবারের তরুণ সদস্য সৌভিক মণ্ডল কলেজ পড়ুয়া। তাঁর কথায়, ‘পুজোর সময় নাচ, গান আর ঢাকের শব্দে মেতে ওঠে গোটা এলাকা। চেনা-অচেনা বিভিন্ন মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা রামনগর।’ পরিবারের আরেক সদস্য শিবানী মণ্ডলের ২৬ বছর হল এই পরিবারে বিয়ে হয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে পা দিয়েই এই পুজো দেখছেন বলে তিনি বলেন। তবে সবাই নিজের খরচে পুজো করেন। তাঁর কথায়, ‘ভবিষ্যতে পুজোর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যেমন আমাদের পরিবারে তিন ভাই। এখন তারা একসঙ্গে রয়েছে। যদি তারা আলাদা হয়ে যায়, তবে পুজোর সংখ্যা আবার বেড়ে যাবে।’

পরিবারের আরেক সদস্য অর্ঘ্যদীপ মণ্ডল বলেন, তাঁদের পুজোয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় পুলিশ-প্রশাসনও। প্যারীচাঁদ ভুবন স্কুল মোড় থেকে রামনগর বাজার পর্যন্ত রাস্তা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় যানবাহন অন্য পথ দিয়ে চলাচল করে। আশপাশের এলাকার লোকজন এই পুজো সম্পর্কে জানেন। তাঁরা ভিড় করেন। বাইরে থেকেও পুজো দেখতে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *