বিশ্বজিৎ প্রামাণিক,কুমারগঞ্জ: একবিংশ শতাব্দীতেও কুসংস্কারের কালো ছায়া! ডাইনি অপবাদ দিয়ে এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল কুমারগঞ্জ ব্লকের মামুদপুর পাহানপাড়ায়। মৃতার নাম লক্ষ্মী সোরেন (৬৮)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আত্মীয় সঞ্জয় টুডুকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার গভীর রাতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সঞ্জয় টুডুর দাবি, তাঁর বোন সুনামি টুডু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং এর জন্য দায়ী লক্ষ্মী সোরেন। বৃদ্ধাকে ‘ডাইনি’ আখ্যা দিয়ে আচমকাই তাঁর ওপর চড়াও হয় সঞ্জয়।
বৃদ্ধার ছেলে মংলু টুডু ও পুত্রবধূ লতিকা হাঁসদা মাকে বাঁচাতে গেলে তাঁদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা পঞ্চায়েত সদস্যার কাছে সাহায্য চাইতে যান। ফিরে এসে দেখেন, বাড়ির সামনে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে আছেন লক্ষ্মী দেবী। কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সোমবার এলাকায় পৌঁছায় কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। মৃতার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সঞ্জয় টুডুকে আটক করা হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকে মামুদপুর পাহানপাড়া থমথমে। সোমবার ময়নাতদন্তের পর দেহ গ্রামে ফিরলে শোকের ছায়া নেমে আসে। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা সভাপতি সৌগত দাস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,”এগুলো পুরোপুরি কুসংস্কার। ডাইনি বলে কিছু হয় না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা ওই এলাকায় সচেতনতামূলক শিবির করব।” উল্লেখ্য, গত এক বছরে কুমারগঞ্জ ও পতিরাম থানা এলাকায় বারবার ডাইনি সন্দেহে হেনস্থা বা মারধরের অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
