বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ড দেবীনগরপাড়ার বিশ্বাসবাড়ির পুজো (Durga Puja 2026) এবার ২৮০ বছরে পা দিল। পারিবারিক পুজো শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের (Bangladesh) ময়মনসিংহ জেলার বরুহাটির আদি বাড়িতে। পরম্পরায় পঞ্চম প্রজন্মের হাত ধরে এখন ময়নাগুড়িতে পুজো অনুষ্ঠিত হয় পৌরাণিক রীতি মেনে। পশুবলির প্রথা আগাগোড়াই ছিল না। সন্ধিপুজো সেরে অষ্টমীর পর কলা, আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। বিসর্জনের দিনেই সন্ধ্যার পর দেবীর বিসর্জন দেওয়া হয় শহরের জর্দা নদীর ঘাটে। বিসর্জনের পর বাড়ির সকলে মিলে আত্মীয়-পরিজনদের নিয়ে রাতের খাওয়াদাওয়া সারেন। রাতের মেনুতে থাকে দুই রকমের মাছ, ভাজা ও চাটনি।
বরুহাটিতে পুজো শুরু করেছিলেন প্রয়াত কালীনাথ বিশ্বাস। এরপর পুজোর দায়ভার বর্তায় তাঁর পুত্র প্রয়াত রায় কল্যাণ বিশ্বাসের ওপর। তাঁর প্রয়াণে পুজো সামলান পুত্র প্রয়াত অম্বিকারাজ বিশ্বাস। অম্বিকারাজ বিশ্বাসের পর পুজো সম্পন্ন করার দায়িত্ব পালন করেছেন অশ্বিনীকুমার বিশ্বাস। বর্তমানে অশ্বিনীকুমার বিশ্বাসের ছেলে হিরণ বিশ্বাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুজোর আয়োজন করছেন। এটি বিশ্বাস পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের পুজো।
মহালয়ার (Mahalaya) দিন থেকেই মন্দিরে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হয়। বোধনের পর থেকেই মূলত পুজোর ক’দিন বাড়িতে নিরামিষ খাওয়াদাওয়া চলে। দেবী বিসর্জনের পর রাতেই হয় মৎস্যমুখ। অষ্টমীর দিন প্রতিবেশীদের বাড়িতে বসিয়ে খাওয়ানো হয়। মেনুতে থাকে পোলাও, ছোলার ডাল, ভাজা, চাটনি, পায়েস এবং রসগোল্লা। দুই মেয়ে, দুই জামাই, দিদি, দুই ভাগ্নে এবং নাতি-নাতনিদের নিয়ে পুজো সামলান হিরণ বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী বিজয়া বিশ্বাস। বাড়ির উঠোনেই দেবীর আলাদা মন্দির রয়েছে। সেখানেই পুজো হয় বরাবর।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, পারিবারিক সদস্য ও প্রতিবেশীদের নিয়ে পুজোর ক’দিন আরতি প্রতিযোগিতা হয়। তা নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন সকলে। হিরণ বলেন, ‘দশমীর দিন মাকে পান্তাভাত ও কচুশাক খাইয়ে বিদায় জানানো হয়।’ স্ত্রী বিজয়ার কথায়, ‘পুজোর ক’দিন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের নিয়ে বেশ ভালো কাটে। পুজোর যাবতীয় সরঞ্জাম সারাবছর ধরে সংগ্রহ করে রাখা হয়।’ পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী পুজো করেন স্থানীয় পুরোহিত সায়ন চক্রবর্তী।

