গাজোল: কোটি কোটি টাকা খরচ করে জাতীয় সড়কের দু’পাশে তৈরি হয়েছিল অত্যাধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা। কিন্তু প্রথম বড় বৃষ্টিতেই সেই পরিকল্পনার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ল। মঙ্গলবার রাতের মাত্র দু’ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ল ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (Nationwide Freeway 512)। শুধু রাস্তা নয়, ড্রেন (Drainage Downside) উপচে জল ঢুকেছে কয়েকশো দোকানে। বুধবার বিকেল গড়িয়ে গেলেও গাজোল পোস্ট অফিস চত্বর থইথই করছে পচা দুর্গন্ধে ভরা নর্দমার জলে, যার জেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার রাত থেকেই দোকানের ভেতর থেকে জল বের করতে ব্যস্ত ছিলেন দেবাশীষ দাস, তাপস দাসদের মতো ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন তৈরি করেছে। ড্রেন দিয়ে জল যাওয়ার বদলে তা উল্টে দোকানে ঢুকছে। এতে তাঁদের লক্ষাধিক টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, এই আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে?
সবথেকে খারাপ অবস্থা গাজোল পোস্ট অফিসের। বুধবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে হাঁটু সমান নোংরা জল জমে থাকতে দেখা গেছে। পোস্ট অফিসে আসা গ্রাহক রমেন মন্ডল জানান, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত জল পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে। এর ফলে চর্মরোগ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পুরুষরা কোনোক্রমে যাতায়াত করলেও মহিলারা চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
গাজোল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিধানচন্দ্র রায় বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম এই কাজ অবৈজ্ঞানিক হচ্ছে। প্রতি বছর বৃষ্টি আমাদের আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণ করে দেয়।” অবিলম্বে নিকাশি ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধন করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
