দিনহাটা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) আমলে দীর্ঘদিনের অত্যাচার, তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ তুলে শুক্রবার দিনহাটার (Dinhata) গোসানিমারি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট নলধন্দ্রা গ্রামে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য টুলটুলি বর্মনের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে (Villagers Protest) সামিল হন প্রায় দুই শতাধিক গ্রামবাসী।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে টুলটুলি বর্মন পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বামী মানিক বর্মন ও পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। গ্রামবাসীদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ব্যবহার করে প্রতিটি নির্বাচনের পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মারধর, বাড়ি ভাঙচুর এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোরও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আগাম টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে।
এদিন স্থানীয় বাসিন্দা বুলন চন্দ্র দাস ও সুশান্ত রায় অভিযোগ করেন যে, কাটমানির টাকায় ওই পরিবার বিত্তশালী হয়েছে, আর সাধারণ মানুষ দীর্ঘকাল অত্যাচার সহ্য করেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য টুলটুলি বর্মন। তিনি বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা। আগে সবাই তৃণমূল করলেও এখন বিজেপিতে যোগ দিয়ে আমাদের রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রতন বর্মন এবং তাঁর দুই ছেলে মানিক ও দিলীপ বর্মন পলাতক রয়েছেন। পুলিশকে জানিয়েও এতদিন কাজ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসী। পুরো ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
