শিবশংকর সূত্রধর,কোচবিহার: গত বছর খাগড়াবাড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কনভয়ে (convoy) হামলায় ঘটনার তদন্তে পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠছে। সেই ঘটনার সূত্র ধরে শুক্রবার বিকেলে তৃণমূলের কোচবিহার-২ (Cooch Behar) ব্লক সভাপতি শুভঙ্কর দে-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি পুন্ডিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান নূর আলম ও বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্য রঘুনাথ সরকারকেও গ্রেপ্তার করেছে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ। এদিন খাগড়াবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ, তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক সহ তৃণমূলের ছোট-বড় মিলিয়ে ৪১জন নেতার নাম রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযান শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিংয়ের কথয়, ‘ওই ঘটনায় আগেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুক্রবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ঘটনার সময়ের ভিডিও পেয়েছি। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আরও যারা জড়িত ছিল তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’
কোচবিহারে বারবার বিজেপির বিধায়করা আক্রান্ত হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সে বিষয়ে কথা বলার জন্য গত বছর ৫ অগাস্ট হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে কোচবিহারের পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তিনি। তাঁর সফরের সময় খাগড়াবাড়িতে বিক্ষোভ কর্মসুচির আয়োজন করেছিল তখনকার শাসকদল তৃণমূল। পুলিশের সামনেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা শুভেন্দুর কনভয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাঁর গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়। পুলিশের গাড়িও ভাঙা হয়েছিল। ঘটনায় ৪১ জনের নামে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তখন ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা পরবর্তীতে জামিন পেয়ে যান।
এদিন ধৃত শুভঙ্কর দে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের ঘনিষ্ঠ। প্রভাবশালী হওয়ায় শুভঙ্করকে নাকি পুলিশি নিরাপত্তাও দেওয়া হত। এবারের নির্বাচনে কোচবিহার উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবেও কাজ করতে দেখা গিয়েছে তাকে। তবে তৃণমূলের হারের পর তার আর খুব বেশি দেখা যায়নি। অন্যদিকে ধৃত নূর আলম ও রঘুনাথ সরকারও সেদিনের সেই কনভয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
