উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এক বছরের বেশি সময় আগে বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। তারপর থেকে তিনি ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। এবার হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে আপত্তি তুলল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশর অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার ঢাকায় (Dhaka) ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার পবন ভাদেকে ডেকে পাঠায় বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। এবিষয়ে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক দৃষ্টি ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে দাবি সেদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলির।
বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলি সুত্রে জানা গিয়েছে, সেদেশের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়াটা দুই দেশের সুসম্পর্কের পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মাধ্যমে হাসিনার কথা বলার সুযোগ বন্ধ করতে নয়াদিল্লিকে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।
গত বছর থেকে ভারতে অজ্ঞাতবাসে রয়েছেন হাসিনা। ওই বছর নভেম্বরের গোড়ায় ইমেলে তিন সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, এএফপি এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি। এর পরে আরও কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ইমেল সাক্ষাৎকার দেন হাসিনা। সাক্ষাৎকারগুলিতে বাংলাদেশে ঘটে চলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যে সমস্ত প্রাণহানির মত ঘটনা হয় তার দায় চাপিয়েছিলেন সেদেশের পুলিশ ও প্রশাসনিক ওপর।
এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের মাটিতে বসে হাসিনার সমাজমাধ্যমে বক্তৃতা করা নিয়েও আপত্তি তুলেছিল ইউনূস সরকার। বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে— বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারের মুখোমুখি এক কুখ্যাত পলাতক আসামিকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁকে বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার জন্য সুযোগ করে দেওয়ার মত এমন পদক্ষেপ দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একেবারেই সহায়ক নয়। ভারতীয় কূটনীতিককে বলা হয়েছে, অবিলম্বে শেখ হাসিনার সংবাদমাধ্যমে কথা বলা বন্ধের বিষয়ে তিনি যেন নয়াদিল্লিকে ঢাকার এই অনুরোধ পৌঁছে দেন।
