Balurghat | মিষ্টির থালায় আরশোলা, কাজুবাদামে ইঁদুর! বালুরঘাটে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে বন্ধ দু’টি দোকান  

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


বালুরঘাট: জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শুক্রবার বালুরঘাট (Balurghat) শহরে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের যৌথ অভিযানে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের। এদিন শহরের একাধিক মিষ্টির দোকান, ফাস্টফুডের দোকান ও রেস্তোরাঁয় আচমকা হানা দেন ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর ও খাদ্য সুরক্ষা (Meals Security) দপ্তরের আধিকারিকেরা। অভিযানে (raid) তাঁদের সঙ্গে ছিল পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চও। অভিযানের দরুন বিভিন্ন দোকানে খাবার তৈরির পরিবেশ ও খাদ্যসামগ্রীর অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আধিকারিকেরা। বালুরঘাট শহরের পাশাপাশি কামারপাড়া বাজার ও হিলি ব্লকের ত্রিমোহিনী বাজারের একাধিক দোকানেও অভিযান চালানো হয়।

অভিযোগ, এদিনের অভিযানের দরুন দেখা যায় একাধিক মিষ্টির দোকানে মিষ্টান্ন তৈরির জায়গা অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। কোথাও আবার আরশোলা ও মাকড়সা অনায়াসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে জায়গায় মিষ্টি রাখা হয়, সেখানে আরশোলার পা দেখে চমকে ওঠেন আধিকারিকেরা। পরিস্থিতি দেখে শহরের তববাজার এলাকার দু’টি মিষ্টির দোকানকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনি ও রবিবার ওই দু’টি দোকান বন্ধ থাকবে। সোমবার আধিকারিকেরা ফের সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিনের অভিযান থেকে বাদ যায়নি ফাস্টফুডের দোকানও। দু’টি দোকানে ঢুকে আধিকারিকেরা মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দেখতে পান। পাশাপাশি খাবারে অতিরিক্ত ফুড কালার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি ফাস্টফুডের দোকানে থাকা বিভিন্ন সামগ্রীও এদিন নষ্ট করে দেন আধিকারিকেরা।

তবে রেস্তোরাঁগুলির পরিস্থিতি দেখে আরও বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। বিরিয়ানি-সহ বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত কেওড়া জল, গোলাপ জল এবং বিভিন্ন কালারিং এজেন্টের গায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখের কোনও উল্লেখ নেই বলেও অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, যেখানে কাঁচামাল রাখা হয়, তার পাশেই রয়েছে শৌচাগার। শৌচাগারের গন্ধের জন্য সেই জায়গায় এক মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছিল না বলেও জানান আধিকারিকেরা। রান্নাঘরেও একাধিক খাবার অঢাকা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। চিকেন পকোড়া তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজারে রাখা চিকেনের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে এই অভিযানে। এ ছাড়া যুবশ্রী এলাকার একটি রেস্তোরাঁর কোনও লাইসেন্স নেই বলেও জানানো হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক নবনীতা মজুমদার বলেন, ‘‘দু’টি মিষ্টির দোকানকে স্বাস্থ্যকর অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দু’দিনের সময় দিয়ে দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি রেস্তোরাঁয় কাজুবাদাম সহ বিভিন্ন নাটস-এর উপরে ইঁদুর হেটে যেতে দেখেছি।”  রেস্তোরাঁটিকে গত বছরই লাইসেন্স করার কথা বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি। এবছর জুলাই মাসেও ওই রেস্তোরাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি জল পরীক্ষা করার কথা বলা হলেও নাকি তা করা হয়নি। এই বিষয়ে নবনীতা মজুমদার বলেন, ‘‘আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *