উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজনীতির কঠোর ময়দানেও যে ব্যক্তিগত স্তরে হৃদ্যতা এবং সৌজন্য বজায় রাখা সম্ভব, তার বহুবার প্রমাণ দিয়েছেন ঘাটালের তারকা সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব (Dev)। রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যবধান দূরে সরিয়ে বিরোধী শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত। এই ধারা বজায় রেখেই এবার দেবের আমন্ত্রণে তাঁর বাসভবনে আয়োজিত গণেশ পুজোয় (Ganesh Puja) সশরীরে উপস্থিত হলেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Dev-Sukanta Majumdar)। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বাইরে এই ধরনের পারস্পরিক সখ্যতা স্বাভাবিকভাবেই সর্বমহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিগত বছরগুলিতে বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নানা ধরনের নতুন সমীকরণের জন্ম হতে দেখেছে রাজ্যবাসী। সেই প্রেক্ষিতে দেব ও সুকান্তর এই সাক্ষাৎ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এর মধ্যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক অভিসন্ধি খোঁজার কোনো অবকাশ নেই। তাঁর কথায়, “এর মধ্যে কেউ কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি খোঁজার চেষ্টা করবেন না। তার কারণ দেবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহু পুরোনো। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, ২০২৪ সালে ও যখন তৃণমূলের স্টার প্রচারক হিসেবে আমার লোকসভায় গিয়েছিল প্রচার করতে, তখনও মঞ্চ থেকে দেব স্বীকার করে নিয়েছিল যে, আমার সঙ্গে ওঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এবং সেটা ও বক্তৃতা দেওয়ার মাঝে জনসমক্ষেই বলেছিল। দেব সেদিনও বলেছিল- ‘যে ভালো ব্যক্তি সে জিতবে।’ ওঁর এই উদার মানসিকতার জন্যই ওঁকে আমার ভালো লেগেছে। সেজন্যই আমার এখানে আসার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক কারণ খোঁজার চেষ্টা করবেন না।”
ঘাটালের সাংসদকে নিজের ভাই হিসেবে সম্বোধন করে সুকান্ত আরও যোগ করেন যে, তিনি দেবের বন্ধু বা বয়সে একটু বড় হওয়ার সুবাদে দাদা হিসেবেও পরিগণিত হতে পারেন। তাই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এবং পুজোর এই পবিত্র আনন্দঘন মুহূর্তকে রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্ধ্বে রাখাই সবথেকে শ্রেয়। গত কয়েক বছর ধরে নিজের বাড়িতে অত্যন্ত জাঁকজমক ও নিষ্ঠার সঙ্গে গণেশ চতুর্থী উৎসব পালন করে আসছেন অভিনেতা দেব। সোমবারই মহাসমারোহে তিনি বাপ্পাকে নিজের ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন, আর উৎসবের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ মঙ্গলবার সেখানে অতিথি হিসেবে হাজির হন সুকান্ত।
গজাননের আরাধনার পাশাপাশি দেবের বাবা গুরুপদ অধিকারীর সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ সৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, অভিনেতা-প্রযোজকের বাড়িতে বসে নিজের আসন্ন নাটক ‘কেশরী হত্যা?’ নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি, যেখানে বালুরঘাটের এই বিজেপি সাংসদকে কিংবদন্তি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অটলবিহারী বাজপেয়ীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। উৎসবের মরশুমে রাজনৈতিক সৌজন্যের এই মন ভালো করা ছবি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

