আসানসোলঃ সরকারি সমস্ত নিয়ম ও শিষ্টাচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ পঞ্চায়েত অফিসের সভাকক্ষের ভেতরে মদ্যপানের আসর বসানোর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে (Jamuria Viral Video)। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার জামুড়িয়া ব্লকের চিচুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ঘটা এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে গোটা ব্লক তথা জেলা প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এই ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা পৃথকভাবে যাচাই করা হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি অবলীলায় পঞ্চায়েতের কনফারেন্স রুমে বসে মদ্যপানে ব্যস্ত রয়েছেন। ঘরের দেওয়ালের ঠিক ওপরেই ঝুলছে ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘গ্যারান্টি ফর রোজগার’-এর সরকারি ব্যানার, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর ছবিও দৃশ্যমান। ব্যানার ও ছবির এই উপস্থিতি থেকেই ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের বলেই জোরালো অনুমান করা হচ্ছে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরের তরফ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজকর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত বিজেপি সমর্থকরাই সরকারি দপ্তরের পবিত্রতা নষ্ট করে এই ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের এই আচরণকেই তাদের আসল চরিত্র বলে কটাক্ষ করেছে রাজ্যের শাসক দল। যদিও তৃণমূলের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের সাফ দাবি, ওই ভিডিওতে যাদের মদ্যপান করতে দেখা যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে দলের দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। তারা দলের কোনো কর্মী, সমর্থক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারী নন বলেই দাবি বিজেপির। উলটোদিকে বিজেপির পালটা অভিযোগ, মদ্যপানের সঙ্গে যুক্ত ওই ব্যক্তিরা আসলে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ঠিকাদার ও সুপারভাইজার।
ইতিমধ্যেই এই ভিডিওটি প্রশাসনিক মহলে পাঠিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। জামুড়িয়ার বিজেপি বিধায়ক ডাঃ বিজন মুখোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে, পঞ্চায়েত অফিস সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার জায়গা, কিন্তু সেখানে এখনও তৃণমূলের লোকেরাই একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রেখেছে। বিজেপির কর্মীরা কখনো সরকারি দপ্তরে বসে এমন অমার্জিত ও অসামাজিক কাজ করতে পারেন না। তিনি আরও যোগ করেন, গত ৪ মে’র পর থেকে অনেকেই ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে বিজেপির পতাকা হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তবে এই ঘটনায় যদি দলের কোনো প্রকৃত কর্মীর নামও জড়ায়, তবে প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বের তরফে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানানো হবে। সবমিলিয়ে, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের আসল পরিচয় শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।

