উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলা মানেই কি সাত বা আট দফার দীর্ঘ ভোটযুদ্ধ? প্রতিবার নির্বাচনের সময় এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজ্যে একদিনে ভোট মিটলেও বাংলার ক্ষেত্রে দেখা যায় বিমাতৃসুলভ আচরণ। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Meeting Election 2026) আগে সেই ‘তকমা ঝেড়ে ফেলতে বড়সড় কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর সূত্রের খবর, এবার ম্যারাথন নয়, বরং ‘ওয়ান ডে ম্যাচ’-এর ধাঁচে এক দফাতেই ভোট করাতে প্রস্তুত রাজ্য কমিশন।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) যদি রাজ্যের মতামত জানতে চায়, তবে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিতে পারেন—২৯৪টি আসনে একদিনেই ভোট গ্রহণে প্রশাসনিকভাবে প্রস্তুত তাঁর দপ্তর। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিইও দপ্তরের এই অবস্থান কার্যত তৃণমূলের দীর্ঘদিনের দাবিকেই মান্যতা দেওয়ার শামিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি সেই দিল্লির নির্বাচন কমিশনের হাতেই।
যদিও বাংলায় বাস্তবের মাটি বেশ কঠিন। বাংলা ও নির্বাচনী হিংসা একে অপরের পরিপূরক। এক দফায় ভোট হলে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সন্ত্রাস কমবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করলেও, বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জোগান নিয়ে। একই সময়ে দেশের আরও ৪-৫টি রাজ্যে ভোট হওয়ার কথা। এমতাবস্থায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কি একদিনে বাংলার জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) পাঠাতে পারবে? পর্যাপ্ত বাহিনী ছাড়া এক দফায় ভোট হলে বুথ রক্ষা করা কমিশনের কাছে বড় অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর এক দফায় ভোটের জল্পনা নিয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরই মেপে পা ফেলছে। এক দিনের ভোটে কি চাপে পড়বে ঘাসফুল শিবির? জল্পনা উড়িয়ে তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষের জবাব, “যারা ভালো খেলে, তারা সব পিচেই সেঞ্চুরি হাঁকায়। আমরা দফা গুনে রাজনীতি করি না।” অন্যদিকে, বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বল ঠেলে দিয়েছেন কমিশনের কোর্টেই। তাঁর কথায়, “কমিশন এক দফা করুক বা বহু দফা, বিজেপি লড়াইয়ের জন্য সর্বদাই প্রস্তুত।”
