উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের কথিত ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) (CJP)-র ডাকা বিশাল বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছে রাজধানী দিল্লির স্বাভাবিক ছন্দ (Delhi Jantar Mantar protest)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে সিজেপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশ পুরো মধ্য দিল্লিকে একপ্রকার দুর্গে পরিণত করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই সংসদ মার্গ, যা কনট প্লেসকে যন্তর মন্তরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, সেখানে প্রায় ২৫০ জন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন দেখা যায়। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি সেখানে পুরোপুরি বর্জিত; কড়া পাহারায় রয়েছে দিল্লি পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ)।
শনিবারের এই মেগা বিক্ষোভ ঠেকাতে প্রায় ৪০,০০০ সশস্ত্র জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫,০০০ দিল্লি পুলিশের এবং ২৬,০০০ কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মী। পুরো দিল্লিকে ২০টি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারদের হাতে দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য প্রবেশপথ হিসেবে চিহ্নিত ৩৭টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে কয়েক স্তরের ব্যারিকেড। মহিলা বিক্ষোভকারীদের সামলাতে হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে আসা ৫,০০০ কর্মী সহ সিএপিএফ-এর বিশেষ প্রশিক্ষিত মহিলা জওয়ানদের যুক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার এই কড়াকড়িতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) প্রথমে ৫৭টি এবং পরে তা সংশোধন করে ৪৫টি স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা করে। এছাড়া ৯ অক্টোবর জারি আদেশ অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ আইন ২০২৩ এবং অস্থায়ী পরিষেবা স্থগিত নিয়মাবলি ২০২৪-এর অধীনে জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনি রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশিকায় ধৌলা কুঁয়া, মান্ডি হাউস, মিন্টো রোড, প্যাটেল চক সহ অন্তত ৩০টি পয়েন্টে যান চলাচলে রুট পরিবর্তনের আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় রেলের তরফেও শুক্রবার দুপুর ২টোর পর রওনা দেওয়া বেশ কিছু এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যা শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নতুন দিল্লি বা নিজামুদ্দিনে পৌঁছানোর কথা ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে গেস্ট হাউস, হোটেল বা পিজি-তে ওঠা ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী বহিরাগত যুবকদের তথ্যে নজরদারি চালাচ্ছ পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যমেও এই আন্দোলনের উত্তাপ তুঙ্গে। “জ্ঞানেশ কুমার আপনার ভোটচুরির সময় শেষ” – সিজেপি-র এক্স হ্যান্ডেলে এমন পোস্টের পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধি, বি আর আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুর প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রকে তোপ দাগা হয়েছে। সিজেপি মুখপাত্র যুক্ত সুধীর সাংওয়ানের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেটা কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করা হয়, “প্রিয় মেটা, আপনারা কি তবে নির্বাচন কমিশনের মতো সরাসরি জ্ঞানেশ কুমার বা অমিত শা-র হাতে কন্ট্রোল তুলে দিয়েছেন?” অন্যদিকে, পুলিশের তরফে অতিরিক্ত কমিশনার রাজীব রঞ্জন জানান, গত জুলাইয়ের আন্দোলনে ২০০-র বেশি পুলিশ কর্মী আহত হন, যা শেষ পর্যন্ত তত্কালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে গড়ায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংবেদনশীল এলাকাগুলির নিরাপত্তার স্বার্থেই ১৬৩ নম্বর বিএনএসএস ধারা জারি করে এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

