উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বৃহস্পতিবার ভোরে ক্যানিংয়ের জীবনতলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার (Saokat Molla) বাড়িতে হানা দিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে বন্দি হলেন প্রভাবশালী এই তৃণমূল নেতা।
বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা। ক্যানিংয়ের জীবনতলায় শওকত মোল্লার বাড়িতে যখন এনআইএ আধিকারিকরা পৌঁছন, তখন বাড়ির প্রধান ফটকে ঝুলছিল তালা। ভেতরে কাউকেই পাওয়া যায়নি। এরপরই তদন্তকারীরা শওকতের দলীয় কার্যালয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন। এই প্রসঙ্গে শওকতের ছেলে, স্ত্রী ও কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবশেষে শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই নাকি চুনখালির দিক দিয়ে বাংলাদেশ সীমানা পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শওকত। কিন্তু সীমান্তরক্ষী ও গোয়েন্দাদের তৎপরতায় সেখানে তিনি তাড়া খান। সেই যাত্রায় কোনোমতে বাঁচলেও পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে থাকে। এদিন আলিপুর কোর্ট চত্বরে শওকত-বাহিনীর বেশ কয়েকজনকে এনআইএ নজরবন্দি করে রাখলে চাপে পড়ে যান প্রাক্তন এই বিধায়ক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোর্ট চত্বর থেকে একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় শওকতের বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। সব রাস্তা বন্ধ হয়ে আসছে বুঝে নাকি শেষমেশ নিজের আইনজীবী ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে পরামর্শ করে শুক্রবার রাতে নিউ টাউনে এনআইএ-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই বারুইপুরে মাঝরাস্তা থেকে শওকতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা দীর্ঘকাল ধরেই ভাঙড়-ক্যানিং রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ। নির্বাচনে হারের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে তিনি সংবাদের শিরোনামে এসেছেন। তবে এই গ্রেপ্তারির ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরেও এখন নতুন করে অস্বস্তি শুরু হয়েছে, কারণ কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই পদক্ষেপকে ভোটের আগের একটি ‘বড় ধাক্কা’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।এখন দেখার বিষয়, জেরা চলাকালীন শওকত মোল্লা তদন্তকারীদের সামনে আরও কোন বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন এবং এই মামলার শিকড় ঠিক কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
