জঙ্গি যোগে নাম জড়িয়েছিল ছেলের। আত্মগোপন করে থাকা সেই ছেলের খোঁজ পেতেই পুলিশে খবর দিলেন বাবা। সন্দেহভাজন জেএমবি জঙ্গি মুজিবুর রহমানকে বিহারের ভাগলপুরের গোপন ডেরা থেকে আটক করল গঙ্গারামপুর পুলিশ। ধৃতকে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। যদিও পুলিশের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
কৃষিকাজের পাশাপাশি, গৃহশিক্ষক মিজানুর রহমানের ছেলে মুজিবুর। দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারীর কুশকারী গ্রামের বাসিন্দা বছর উনত্রিশের যুবক মজিবুর স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে বিএসসিতে স্নাতক এবং বিএড কোর্স সম্পূর্ণ করে। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এক বোনের বিয়ে হয়েছে বহুদিন আগেই। পরিবারের দাবি, মুজিবুর উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে থাকত। তবে গ্রামের বাড়িতে আসা যাওয়া ছিল। গত ২ জানুয়ারি থেকে বেপাত্তা হয়ে যায়। গ্রামের বাড়িতে একটি বারের জন্যও আসেনি। ২৯ সেপ্টেম্বর বংশীহারী থানার পুলিশকে নিয়ে এনআইএ-এর চার প্রতিনিধি দল মজিবুরের খোঁজে গ্রামে আসে। কাগজপত্র ও নথি খতিয়ে দেখে এনআইএ।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা মুজিবুরের বাবা মিজানুর রহমানকে জেরা চলে। মুজিবুর সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে বাবাকে ১ অক্টোবর কলকাতায় ডেকে পাঠায় এনআইএ। হাজিরাও দেন বাবা। বৃহস্পতির রাতে গঙ্গারামপুর এসডিপিও শিবতোষ সরকারের নেতৃত্বে একটি দল বিহারের ভাগলপুরের ডেরা থেকে আটক করেছে সন্দেহভাজন জেএমবি জঙ্গি মজিবুরকে। তাকেই এনআইএর হাতে তুলে দেওয়া হবে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশের তরফে। মিজানুর বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ বলে মনে করি। ছেলেকে খুব ভালোভাবে মানুষ করছিলাম। পরে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। জানতে পারি বিহারের ভাগলপুরে আছে। আমিই সেই খবর পুলিশকে জানিয়েছি। ছেলে নির্দোষ হলে ছাড়া পাবে। অন্যায় কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে শাস্তি পাবে।”
প্রসঙ্গত, জঙ্গি সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’-র সঙ্গে যোগ থাকার সন্দেহে তিন রাজ্য জুড়ে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযান চালাচ্ছে। অসমেকয়েকজন ধরাও পড়েছে। ডিজিটাল ডিভাইসে বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড মেসেজ মিলেছে। তাতে বঙ্গের একাধিক নাম উঠে এসেছে। মুজিবুরেরও নাম রয়েছে বলে সন্দেহ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
