উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রবিবার দুপুরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতনে (satya niketan) একটি পাঁচতলা পেয়িং গেস্ট (পিজি) বিল্ডিং ভেঙে পড়ে (constructing collapse) ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দু’জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় এইমসের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন। এখনও পর্যন্ত মোট আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৪০-৫০ জনের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে, নানকপুরা গুরুদ্বার সংলগ্ন ‘হস্টেল ডেজ’ নামের ওই বহুতলে মূলত কেরালা, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের পড়ুয়ারা থাকতেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাজেন ছেত্রী জানান, “তারা বেড প্রতি ১২,০০০ টাকা করে ভাড়া দিতেন।” নিচতলায় একটি ওষুধের দোকান ছিল। জানা গেছে, বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলার সময়েই বেলা ১:৩০ নাগাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা ভবনটি (scholar pg collapse)। পুলিশ ভবনের মালিক গুরুগ্রামের বাসিন্দা আনন্দ বনশলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
দিল্লি পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আটকে পড়া বা আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনও অজানা। নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।” এলাকার রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছতে বেগ পেতে হয়। স্থানীয়দের পাশাপাশি এনডিআরএফ, দমকলের ১২টি ইঞ্জিন, ডিডিএমএ এবং সিভিল ডিফেন্স একযোগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আটকে পড়াদের শ্বাস নেওয়ার সুবিধার্থে অক্সিজেনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে এনএসইউআই এবং আইসা-র মতো ছাত্র সংগঠনগুলিও।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এক্স-হ্যান্ডেলে লেখেন, “আটকে পড়াদের নিরাপদে উদ্ধার করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে সম্ভাব্য সবরকম চেষ্টা চলছে।” সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের একটি ভবন ফাঁকা করা হয়েছে। দিল্লির উপ-রাজ্যপাল তরণজিৎ সিং সান্ধু সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, “পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। যাদের প্রয়োজন, তাদের কাছে সম্ভাব্য সবরকম সাহায্য পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।”
খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা গোয়ায় তাঁর দলের একটি অনুষ্ঠান কাটছাঁট করেন। অন্যদিকে, দিল্লি সরকারকে নিশানা করে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, “নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে বড় পরিসরে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

