উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে (Delhi) আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তুলকালাম কাণ্ড। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর যন্তর মন্তর (Jantar Mantar) এলাকা থেকে আম আদমি পার্টি (AAP), বামপন্থী দল এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রায় ৭০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
এদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ সহ বৃন্দা কারাট, যোগেন্দ্র যাদব, নেহা বোরা এবং ঐশী ঘোষের মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট অ্যাক্টিভিস্টরা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই এই বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, স্লোগান বা মিছিলের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও শুক্রবার দুপুরের পর যন্তর মন্তর এবং সংলগ্ন জনপথ এলাকায় ব্যারিকেড ভেঙে জড়ো হন প্রতিবাদীরা। ১০ জনের বেশি জমায়েত দেখলেই পুলিশ তাদের জোরপূর্বক বাসে তুলে বদরপুর এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিল্লির বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান ও আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধীরা। আটকের আগে এক ভিডিও বার্তায় আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। অথচ পুলিশ বলছে এই বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যদিও আমরা ছয় দিন আগেই এর জন্য আবেদন করেছিলাম।”
ইন্ডিয়া ইয়ুথ কংগ্রেসের প্রধান উদয় ভানু চিব নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের হুঙ্কার দিয়ে জানান, ভোটার তালিকা ও ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে খোদ কমিশনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে। দেশের মানুষ এই বিষয়ে জবাবদিহিতা চায়।
বিক্ষোভের জেরে রাজধানী জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি মেট্রো রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং যন্তর মন্তর সহ কেন্দ্রীয় দিল্লির ১২টি স্টেশনের এন্ট্রি ও এক্সিট গেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এছাড়া অশান্তি এড়াতে প্রতিবাদী স্থল এবং তার আশপাশের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।

