Delhi | দিল্লির পুজোয় বাঙালি বিয়ের সাজ, লোকনাট্য 

Delhi | দিল্লির পুজোয় বাঙালি বিয়ের সাজ, লোকনাট্য 

শিক্ষা
Spread the love


নবনীতা মণ্ডল, নয়াদিল্লি: দিল্লি (Delhi)-তে দুর্গাপুজো (Durga Puja) আজ প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণের উৎসব। কিন্তু এই উৎসবের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না, ছিল সংগ্রামের ইতিহাস।

১৯৭০ সালে, যখন চিত্তরঞ্জন পার্ক কলোনি সদ্য গড়ে উঠছিল, তখনই প্রথম দুর্গাপুজোর সূচনা। দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান (আজকের বাংলাদেশ) থেকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে এখানে জমি দেওয়া হয়েছিল। যাঁরা ঘর-বাড়ি, সব কিছু হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন, তাঁদের কাছে দুর্গাপুজো হয়ে উঠেছিল আশ্রয়ের আবেগ আর বন্ধনের কেন্দ্র। দেবীর আবাহন ছিল আসলে নতুন জীবনের পুনর্গঠন, নিজেদের মাটি খুঁজে পাওয়ার এক উপায়।

তবে দেশভাগের আগেই অবশ্য দিল্লিতে বাঙালিদের উপস্থিতি বাড়ছিল ধীরে ধীরে। তাঁদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আস্থার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল কালীবাড়িগুলি। তাই প্রথম দিকের দুর্গাপুজো স্বাভাবিক ভাবেই আয়োজন করা হত কালীবাড়িগুলিতে। কাশ্মীরি গেট, মিন্টো রোড, করোলবাগ, লাজপত নগর বা আরকে পুরমের মতো পুরোনো বাঙালি এলাকাগুলিতে কালীবাড়ি ছিল সহজলভ্য ধর্মীয় কেন্দ্র। সেখানেই একত্রিত হতেন পাড়ার মানুষজন, গড়ে উঠত পুজোর সামাজিক রূপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ আর দুর্গাপুজো কেবল কালীবাড়ির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। চিত্তরঞ্জন পার্ক, নয়ডা, গুরুগ্রাম, দ্বারকা, সব জায়গায় আজ প্যান্ডেল, থিম আর আলোকসজ্জায় মহোৎসবের আবহ। তবু শিকড়ের সেই স্মৃতি এখনও বাঙালির মনে অমলিন।

দেশভাগের ক্ষত থেকে উঠে দাঁড়ানো মানুষদের হাত ধরে যে উৎসবের শুরু, আজ তা হয়ে উঠেছে দিল্লির বাঙালিদের পরিচয়ের প্রতীক। নববধূর সাজ, যাত্রার গৌরব, বাংলার রাজবাড়ির স্থাপত্য বা মাতৃত্বের স্নেহ সব মিলিয়ে এবছরের দুর্গোৎসব যেন নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রবাসের শহরেও বাংলাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।

২০তম বর্ষে পদার্পণ করল গাজিয়াবাদের বৈশালী সেক্টর ৩-র সর্বজনীন শ্রী শ্রী কালীপুজো সমিতির দুর্গাপুজো। এবারের থিম ‘মা’। মৃন্ময়ী দুর্গামূর্তির সামনে আবাহন করা হবে চিন্ময়ী মায়েদের। যাঁরা আজও ভালোবাসা, শক্তি আর আশ্রয়ের প্রতীক। শুধু এলাকার মহিলারাই নয়, আশপাশের বৃদ্ধাশ্রম থেকেও আনা হবে প্রবীণ মায়েদের। তাঁদের দেওয়া হবে বিশেষ সম্মান, আর পুজোর চারদিন উদ্যোক্তারা তাঁদের সঙ্গেই ভাগ করে নেবেন ভোগ আর আনন্দ।

পকেট ৪০, নবপল্লী দুর্গা সমিতি তাদের প্যান্ডেলকে সাজিয়েছে বাঙালি বিবাহের পুরোনো ইতিহাসে। শাঁখা-পলা, কুলো, রঙিন মোটিফ সব মিলিয়ে যেন প্যান্ডেলে বেজে উঠছে বিয়ের সানাই। দেবী দুর্গা শোভিত হবেন বারাণসী থেকে আনা বিশেষ বেনারসি শাড়িতে। শিল্পী আশিস রঞ্জন দাসের আঁকা কলসে ফুটে উঠছে বিবাহের আচার। সভাপতি সমরেশ ভদ্রের কথায়, ‘এই থিমে আমরা তুলে ধরতে চাই প্রায় ৮০ বছর আগের বাঙালি পারিবারিক জীবনের এক ঝলক।’

আরামবাগ দুর্গোৎসব সমিতি। বাংলার লোকনাট্যের হারানো গৌরবকে আবার মঞ্চে ফিরিয়ে আনতে এবারে তাদের থিম ‘যাত্রা’। সার্কেল থিয়েটার কোম্পানির সহযোগিতায় সাজানো হচ্ছে সংবাদপত্রের আর্কাইভ, পুরোনো পোস্টার আর যাত্রার সরঞ্জাম। দেবীর প্রতিমাও তৈরি হয়েছে যাত্রার প্রপস দিয়ে। চেয়ারম্যান অভিজিৎ বসুর কথায়, ‘আমরা চাই নতুন প্রজন্ম জানুক যাত্রা কেবল বিনোদন নয়, বাংলার সংস্কৃতির এক অমূল্য ঐতিহ্য।’ চিত্তরঞ্জন পার্ক কো-অপারেটিভ গ্রাউন্ড দুর্গোৎসব সমিতি ৫০ বছর পূর্তিতে তাদের প্যান্ডেল সেজে উঠছে জয়সলমেরের লেমনস্টোন ফোর্টের আদলে। শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে সত্যজিৎ রায়ের সোনার কেল্লা-কে।

দেশভাগের ক্ষত থেকে উঠে দাঁড়ানো মানুষদের হাত ধরে যে উৎসবের শুরু, আজ তা হয়ে উঠেছে দিল্লির বাঙালিদের পরিচয়ের প্রতীক। নববধূর সাজ, যাত্রার গৌরব, বাংলার রাজবাড়ির স্থাপত্য বা মাতৃত্বের স্নেহ সব মিলিয়ে এবছরের দুর্গোৎসব যেন নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রবাসের শহরেও বাংলাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *