উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হচ্ছেন (TMC leaders arrested)। তোলাবাজি থেকে শুরু করে নানা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের হাজতবাসে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন সেই গ্রেপ্তারিতে ‘আনন্দ’ পাওয়ার কথা জানালেন তৃণমূলেরই যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই পোস্ট ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে (Social media put up)।
ঠিক কী লিখেছেন দেবাংশু? শনিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘কিছু চোর-ডাকাত-তোলাবাজের গ্রেপ্তার দেখে যে কী আনন্দ পাচ্ছি, বলে বোঝানোর নয়! একেকটা জেলাকে বাপের সম্পত্তি ভেবে বসেছিল, আঙুলের ডগায় পুলিশকে নাচাতো! মানুষের বুকের উপর পা দিয়ে সাম্রাজ্য গঠন করেছিল। ছোট ছোট মুখ্যমন্ত্রী ভেবে নিয়েছিল নিজেদের!’ দেবাংশুর সাফ দাবি, জেলায় জেলায় দলের ভরাডুবির আসল হোতা ও হেতু এঁরাই।
তৃণমূল নেতার এই বিস্ফোরক মন্তব্য এখানেই থামেনি। তিনি আরও লেখেন, ‘রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে কিছু কিছু গ্রেপ্তারি হলেও, ফাঁকতালে কয়েকটা প্রকৃত চোর-ছ্যাচোর-হুমকিবাজ ডাকাতও ধরা পড়ছে। যেটা খুবই ভালো লক্ষণ। ব্লেসিং ইন ডিসগাইজ!’ তাঁর মতে, যারা সৎভাবে রাজনীতি করেছেন, তাঁরা কেন বাকিদের অপকর্মের দায়ভার নেবেন? বরং দলের পরাজয়ের পর এই সুযোগে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে লোভী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের দল থেকে চিরতরে ছেঁটে ফেলার আর্জি জানিয়েছেন তিনি (TMC corruption)।
ছাব্বিশের নির্বাচনে চুঁচুড়া কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ার পরেও দেবাংশুর এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তৃণমূলের অন্দরে এখন শুদ্ধিকরণের ডাক দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছেন এই যুব নেতা? ক্ষমতায় থাকাকালীন দলের একাংশ যে ‘চোর-ডাকাতে’ ভরে গিয়েছিল, দেবাংশুর এই পোস্ট পরোক্ষভাবে সেই সত্যকেই যেন শিলমোহর দিল।
