Dakshin Dinajpur | বালুরঘাটে আত্রেয়ী ঘাটে জ্বলবে ৩০ হাজার প্রদীপ! প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন ও সরকারি বরাদ্দ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে দক্ষিণ দিনাজপুরে (Dakshin Dinajpur) জ্বলবে সাড়ে তিন লক্ষ প্রদীপ! বিজেপির দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সরকারি স্তরেও একাধিক আয়োজন শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। প্রতিটি বিধানসভায় দিনটি পালনের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে সরকারি অর্থ এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গোপাল দেব এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বছরে দু’কোটি বেকার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিলেন। তাঁর কটাক্ষ, ‘ওই দিনটিকে বেকারত্ব দিবস হিসেবে পালন করা উচিত। সরকারি টাকা এভাবে খরচ না করে বেকার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। তার আগে বিজেপির তরফে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর সদরঘাটেই ৩০ হাজার প্রদীপ জ্বালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সদরঘাটে প্রস্তুতি দেখতে বুধবার এলাকায় যান বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায়, বিজেপির টাউন সভাপতি সমীরপ্রসাদ দত্ত সহ দলীয় নেতারা। বিজেপির জেলা কার্যালয়ে যজ্ঞের আয়োজনও করা হয়েছে। বিধায়ক জানান, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক মাস ধরে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মসূচি চলবে।

অন্যদিকে, জেলার প্রতিটি বুথে বাড়ি বাড়ি প্রদীপ জ্বালানোরও ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর প্রশাসনের তরফে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিতদের চিহ্নিত করে তাঁদের পরিষেবার আওতায় আনতে জনকল্যাণমূলক শিবির করার প্রস্তুতি চলছে। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বৈঠকও হয়েছে।

বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, ‘জেলার প্রতিটি বুথে বাড়ি বাড়ি প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উপভোক্তারা নিজেদের বাড়িতে প্রদীপ জ্বালাবেন। পাশাপাশি মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিতেও প্রদীপ জ্বালানো হবে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ প্রদীপ জ্বালানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।’

প্রশাসনের এই আয়োজনকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন আরএসপির জেলা সম্পাদক সুচেতা বিশ্বাস। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে সরকারি দপ্তর বা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রদীপ জ্বালানোর আয়োজন হচ্ছে কেন? তাঁর বক্তব্য, ‘যে দেশে মানুষ খেতে পাচ্ছেন না, চাকরি নেই, কলকারখানা নেই, সেখানে এত টাকা খরচ করে একজনের জন্মদিন পালন বিলাসিতা।’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ঘিরে দলীয় কর্মসূচির প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারি স্তরেও চলছে নানা আয়োজন। সরকারি অর্থ এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে এই কর্মসূচি কতটা যুক্তিসংগত, সেই প্রশ্নে এখন সরব বিরোধীরা। ফলে জেলাজুড়ে সাড়ে তিন লক্ষ প্রদীপ জ্বালানোর আয়োজন ঘিরে দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *