Dakshin Dinajpur | অকালবর্ষণে চাষিদের সর্বনাশ, পাট, ধান ও সবজির আবাদে ব্যাপক ক্ষতি 

Dakshin Dinajpur | অকালবর্ষণে চাষিদের সর্বনাশ, পাট, ধান ও সবজির আবাদে ব্যাপক ক্ষতি 

শিক্ষা
Spread the love


নিউজ ব্যুরো: বর্ষাকাল এখনও অনেকটাই দূরে। তার আগে মাঝ বৈশাখে অসময়ের টানা ঝড়-বৃষ্টির জেরে মহাসমস্যায় পড়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার কৃষকরা। পটল-ঝিঙের মতো গরমের সবজি থেকে শুরু করে ধান বা পাট, কোনওটাই প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। জেলাজুড়ে প্রায় ৪০০ বিঘা জমির পাট, প্রায় ৭০০-৮০০ বিঘা জমির সবজি ও শ’তিনেক বিঘা জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। বুধবার সারাদিন ধরে চলে বর্ষণ। বোরো ধান এখন প্রায় কাটার মতো অবস্থায় চলে এলেও অকালবর্ষণে তা এখন ঝুঁকির মুখে। মাঠে পাট গাছের উচ্চতা এখন এক থেকে দেড় ফুট। ভারী বর্ষণে কোনও কোনও জায়গায় সেই পাটের মাথায় মাথায় জল জমেছে। সেই জল যদি দুই-একদিনের মধ্যে নামানোর ব্যবস্থা করা না যায়, তবে বিপাকে পড়বেন কৃষকরা। সবজির ক্ষেত্রেও গোড়ায় জল জমে যাওয়ায় সমস্যা।

বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম ও আশপাশের এলাকা, কুমারগঞ্জ (Kumarganj) ব্লকের সমজিয়া, মোহনা, সাফানগর, বটুন, ভোঁওর ও রামকৃষ্ণপুর পঞ্চায়েত এলাকায় বোরো ধানে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা। ঝোড়ো হাওয়া ও লাগাতার বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ধানের গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। মাঠে জল জমে যাওয়ায় ধানের শিষে পচন ধরার আশঙ্কা বাড়ছে। যদিও কুমারগঞ্জের কৃষি আধিকারিক দেবারতি শীল ধানে সমস্যার কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘কুমারগঞ্জে যেহেতু শিলাবৃষ্টি হয়নি তাই সেই অর্থে ধানের ক্ষতি হয়নি। তবে নীচু জমিতে জল জমেছে। সেগুলো বের করা প্রয়োজন। সবজি চাষের ক্ষেত্রেও জমি থেকে দ্রুত জলনিকাশি ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

মঙ্গলবার গভীর রাতে বংশীহারী ও বুনিয়াদপুর (Buniadpur) এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে গুটি আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কুশমণ্ডি ব্লকের একাধিক গ্রামে পাট ও সবজির জমিতে জল জমে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। মানিকোর, রুয়ানগর, সরলা, বিরামপুর, আকচা ও পানিশালা গ্রামে শিলাবৃষ্টিতে সবজি চাষে ক্ষয়ক্ষতির ছবি স্পষ্ট। কুশমণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রেজাজাহির আব্বাস জানান, প্রায় ৪০০ বিঘা পাট এবং ৭০০ বিঘা সবজি ফসল নষ্টের মুখে। পাশাপাশি করঞ্জি ও মালিগাঁও এলাকায় ভুট্টা চাষেও ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গঙ্গারামপুর ব্লকের কৃষি আধিকারিক মোহম্মদ আবু তালাহা হোসেন বলেন, ‘পাটের জমিতে জল জমে থাকায় ফলনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’ হিলি এলাকায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় প্রায় ২০০ একর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জমিতে জল জমে পাকা ধানে পচন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক গোপাল মহন্ত। একইসঙ্গে শাকসবজির খেতেও ক্ষতি হয়েছে। তপন ব্লকের গুড়াইল, রামচন্দ্রপুর, রামপাড়া, চেঁচড়া ও দ্বীপখণ্ডা এলাকায় সদ্য লাগানো ধান ও সবজি গাছের গোড়ায় জল জমে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তপনের কৃষক সন্তু বর্মন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টির ফলে ধানের জমিতে জল আটকে থাকলে উৎপাদনে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। দুই-একদিনের মধ্যে জমির জল না নামলে ধান ও সবজি দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতি হতে পারে।’

কৃষি বিশেষজ্ঞ শিবানন্দ সিনহা বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব জমা জল বের করে দিতে হবে। এভাবে হঠাৎ জল জমলে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয় লংকা চাষে।’

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ মে পর্যন্ত গৌড়বঙ্গের জেলাগুলিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত চলতে পারে। আগামী চারদিনে দক্ষিণ দিনাজপুর সহ তিন জেলায় প্রায় ১১৬ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *