রাহুল দেব, রায়গঞ্জ: মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির দাপটে কার্যত লন্ডভন্ড রায়গঞ্জ (Raiganj) শহর। ঝড়-বৃষ্টি চলে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে। একাধিক জায়গায় ছোট, মাঝারি থেকে শুরু করে বড় আকারের গাছ যেমন ভেঙেছে ঠিক তেমনই ভারী বৃষ্টির জেরে শহরের বিভিন্ন অংশে জলও জমে যায় রাতে। যদিও সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত জল নেমে গিয়েছে। তবে বিগত তিনদিন ধরে রায়গঞ্জবাসী আকাশে সূর্যের দেখা পাননি।
শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা গাছপালার ছবি নজরে আসে। এমনকি গাছপালা ভেঙে কোথাও কোথাও দোকানপাট অল্প পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হতেও দেখা গিয়েছে। তবে সবথেকে বড় ও রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটেছে শহরের বীরনগর এলাকায়। সেখানকার স্বদেশরঞ্জন রায় পুর ভবন সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটের ছাদের ওপর বাঁশ ও রঙিন কাপড় দিয়ে প্যান্ডেল করা হয়েছিল। সেখানে ছিল টিউবলাইট ও বৈদ্যুতিক পাখাও। কিন্তু তীব্র ঝড়ের (Storm) জেরে সেই বঁাশের পুরো কাঠামো উড়ে গিয়ে পড়ে পাশের জঙ্গলে। পাশের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার থেকে কোনওরকমে রক্ষা পায়। স্থানীয় কিশোরকুমার দেবের কথায়, ‘আমার বাড়ির বাইরের অংশে বাতানুকূল যন্ত্রের কুলার মেশিন বসানো ছিল। অল্পের জন্য তা রক্ষা পায়। তিনতলায় টিনের ঘর থাকায় সেটায় সামান্য পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।’
অন্যদিকে, শহরের দেবীনগর কালীবাড়ি এলাকায় দেখা যায় একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে পড়েছে। তার পাশে থাকা একটি সিমেন্টের তৈরি বৈদ্যুতিক খুঁটি গাছের ধাক্কায় অর্ধেকটা ভেঙে পড়ে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এদিন সকাল ন’টার পর বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা গাছের ডাল কেটে বিদ্যুতের লাইন ঠিক করার কাজ শুরু করেন। এলাকার এক ব্যবসায়ী নবীন দাস বলেন, ‘আমার দোকানের ঠিক বিপরীতেই কৃষ্ণচূড়া গাছ পড়ে গিয়ে তার ছিঁড়ে একাকার অবস্থা। যদিও বিদ্যুৎ দপ্তরের গাড়ি এসে ঠিকঠাকভাবে কাজ করে গিয়েছে।’ শহরের দেবীনগর কালীবাড়ি এলাকায় গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারটি দোকান।
রায়গঞ্জ শহর এবং সংলগ্ন এলাকা আগামীতে আরও কয়েকদিন সূর্যের দেখা পাবেন না বলে মনে করছেন বাসিন্দাদের একাংশ। এদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়া, বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাসে শহরবাসীর গায়ে ফের উঠেছে শীতবস্ত্র। গত সোমবার পর্যন্তও যারা হাফহাতা জামা বা টি-শার্ট পরে কর্মস্থলে গিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে জামা ও টি-শার্টের উপর চড়েছে পাতলা সোয়েটার থেকে পাতলা হুডি। শহরের বাসিন্দা সৌম্যকান্তি সরকার বলেন, ‘মে মাস পড়তে চলল অথচ হঠাৎ করে ঠান্ডা পড়ে যাওয়ায় সত্যিই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাস বা বাইকে করে কর্মস্থলে যেতে গায়ের উপর মোটা কোনও পোশাক জড়াতে হচ্ছে।’
