সুবীর মহন্ত ও বিধান ঘোষ, বালুরঘাট ও হিলি: দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষা শেষে দক্ষিণ দিনাজপুরের (Dakshin Dinajpur) বালুরঘাট-হিলি রেলপ্রকল্পের (Balurghat-Hili railway venture) কাজ গতি পেয়েছিল। কিন্তু সেই কাজে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেতুর কাজ। আত্রেয়ী ও যমুনা নদীর ওপর সেতুর পিলার তৈরি করা হয়েছিল সেই ২০১০ সালে। এখন সেই পিলারের ওপর লোহার ভারী গার্ডার বসানোর কথা। কিন্তু নদীবক্ষে ক্রেন নামিয়ে কাজ করার জন্য যে অস্থায়ী রাস্তা প্রয়োজন, তা তৈরিতে নাকি অনুমতি দিচ্ছে না সেচ দপ্তর। ফলে লাল ফিতের ফাঁসে জট পাকিয়ে গিয়েছে গোটা প্রক্রিয়া। আপাতত বন্ধ রয়েছে রেলসেতুর চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্মাণকাজ।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করতে তারা মরিয়া। কিন্তু নদীর ওপর কাজের জন্য যে রাস্তা বানাতে হবে, সেজন্য এনওসি না মেলায় কাজ এগোতে পারছে না। এই বিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর ডিভিশনের সেচ দপ্তরের কার্যনির্বাহী আধিকারিক সৌম্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘রেল নদী ব্যবহারের জন্য চিঠি দিয়েছিল আমাদের। আমরা পালটা চিঠি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছি, নদী কী কী কাজে তারা ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু তারপরে তারা আর পদক্ষেপ করেনি।’ সেচ দপ্তরের দাবি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং কাজের সঠিক রূপরেখা জমা দিলে তবেই তারা দ্রুত অনুমতি দিয়ে দেবে।
অন্যদিকে, রেলের পক্ষ থেকে দ্রুত জট কাটানোর চেষ্টা চলছে। রেলের কাটিহার ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ওমকার বিচার বলেন, ‘আত্রেয়ী ও যমুনা নদীর সেতু নির্মাণের কাজ সেচ দপ্তরের অনুমতির জন্য থমকে রয়েছে। রাজ্যের সচিবালয় এবং জেলা সেচ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত সমস্যা সমাধান করে নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য সমস্ত রকমের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।’
এই প্রশাসনিক টানাপোড়েন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক অশোককুমার লাহিড়ি সুর চড়িয়ে বলেন, ‘রাজ্য অনুমতি কেন দিল না, তা বুঝতে পারছি না। হয়তো, অবহেলা করে দিচ্ছে না। অথবা, পয়সাকড়ির অভাব রয়েছে।’ আর জবাবে বালুরঘাটের প্রাক্তন সাংসদ তথা তৃণমূল নেত্রী অর্পিতা ঘোষের মন্তব্য, ‘এনওসি পেতে গেলে যে কাজগুলি করতে হয়, সেই কাজগুলি রেল করেছে কি না, তা দেখতে হবে। অনুমতি না নিয়ে কাজ করলে সমস্যা হবে।’
