ভারত: ২০৯/৯ (ঈশান ৬১, হার্দিক ৫২, গেরহার্ড ২০/৪, শিকোঙ্গো ৪১/১)
নামিবিয়া: ১১৬/১০, (স্টিনক্যাম্প ২৯, ফ্রাইলিঙ্ক ২২, বরুণ ৭/৩, অক্ষর ২০/২)
৯৩ রানে জয়ী ভারত।
এই বিষয়ে আরও খবর
ভারত ও নামিবিয়া। দুই দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে উইন্ডহুকের দূরত্ব প্রায় সাড়ে আট হাজার কিমি। দুই দেশের ক্রিকেটের দূরত্বটা হয়তো তার চেয়ে বেশি। তবে আটলান্টিক সাগরের তীরবর্তী আফ্রিকান দেশটি টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে যথাসাধ্য চেষ্টা করল। সেই চেষ্টার প্রশংসা করছেন সকলে। তবে ‘অসম’ দূরত্বটা তো মানতে হবেই। ভারতের দেওয়া ২১০ রান তাড়া করতে নেমে নামিবিয়ার ইনিংস শেষ হল ১১৬ রানে। ‘ঈগলস’দের হারিয়ে পাক যুদ্ধের ড্রেস রিহার্সালটা ভালোই সারলেন সূর্যকুমার, বরুণ চক্রবর্তীরা।
দু’শোর উপর রান তাড়া করতে নেমে ভয়ভীত হয়ে থাকেনি নামিবিয়া। অর্শদীপের বলে মারতে গিয়ে ২২ রানে সাজঘরের রাস্তা দেখলেন জ্যান ফ্র্যাঙ্কলিন। ৩৩ রানে নামিবিয়ার প্রথম উইকেট পড়লেও রানের গতি কমেনি নামিবিয়ার। ৫.৪ ওভারে ৫০ পার করে তারা। পাওয়ার প্লেতে ওঠে ৫৭। অর্থাৎ ওভার পিছু সাড়ে নয় করে তুলছিল আফ্রিকান দেশটি। তবে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তাঁর তুরুপের তাস লুকিয়ে রেখেছিলেন। তাঁরা জশপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেল।
সিরাজের জায়গায় ফিরে নামিবিয়ার ইনিংসের সপ্তম ওভারে বুমরাহ দিলেন ৯ রান। তবে এর পরের ওভারের প্রথম বলেই জুটি ভাঙলেন বরুণ। ভারতীয় বোলারের রহস্যের হদিশ না পেয়ে ফিরলেন লৌরেন স্টিনক্যাম্প (২৯)। তবে অক্ষর এসে জোড়া ছক্কা খেয়ে ওভারে ১৪ রান বিলিয়ে দিলেন। তখনও নামিবিয়ার রানরেট নয়ের উপর। নামিবিয়ার সমর্থকরা যখন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন, ঠিক সেই সময় বরুণের ব্রেক থ্রু। স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে জোড়া সাফল্য পেলেন। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হলেন জান নিকোল লফ্টি-এটন (১৩)। বিনা স্কোরে বোল্ড হলেন জেজে স্মিট। বিপক্ষেরও যেন কোমর ভেঙে গেল সেখানে।


সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম ওভারের ‘ভুল’ আর করলেন না অক্ষর। মেডেন-সহ নামিবিয়ার অধিনায়ক এরাসমাসকে ১৮ রানের মাথায় ফেরালেন। এরপর ক্রুগারকে আউট করলেন সেই অক্ষর। এরপর বুমরাহর নিখুঁত ইয়ার্কারে ট্রাম্পেলম্যান (৬) সাজঘরে ফিরলেন। এরপর টানা দু’বলে উইকেট নিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। তবে প্রথম ভারতীয় বোলার হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের নজির হল না। তবে চার ওভারে ২১ রানে ২ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন পাক ব্যাটারদের প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখাতে তৈরি তিনি। ভারতও জয় পেল ৯৩ রানে। যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে ভারতের ড্রেস রিহার্সাল ছিল। সেই ম্যাচে টস হারেন সূর্য। প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। অভিষেক শর্মার পরিবর্তে এদিন ওপেন করতে নামেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ৮ বলে ২২ রান করেন তিনি। অপর প্রান্তে ঝোড়ো ব্যাটিং করেন দুরন্ত ফর্মে থাকা ঈশান কিষানেরও। মাত্র ২৪ বলে ৬১ রান করেন তিনি। ছয়টি বাউন্ডারি এবং পাঁচটি ছক্কা মারেন। অতি আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়েই শেষ পর্যন্ত উইকেট খোয়ান। ঈশানের উইকেট পড়ার পরেই আচমকা ছন্দ হারিয়ে ফেলে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ। রান পাননি সূর্যকুমার (১২), তিলক বর্মা (২৫)। শেষবেলায় চালিয়ে খেলে ২৮ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান হার্দিক। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে ভারত মাত্র ২৫ রান তুলে ৫ উইকেট হারাল। যা পাকিস্তান ম্যাচের আগে চিন্তায় রাখবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। যদিও ভারতের দেওয়া ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৬ রানে রানে গুটিয়ে গেল নামিবিয়া। বরুণ দু’ওভারে ৭ রান দিয়ে নিলেন ৩ উইকেট। অক্ষর ২, হার্দিক ২, বুমরাহ, অর্শদীপ, শিবম দুবে ১টি করে উইকেট ভাগ করে নিলেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
রবিবার ভারত-পাকিস্তান মহারণ। তার আগে গৌতম গম্ভীরদের ভাবাচ্ছে চোট-আঘাত, মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা। তাছাড়াও খেলা হবে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। যে মাঠে ইতিমধ্যেই দু’টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে পাকিস্তান। অর্থাৎ বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা পরিবেশের সঙ্গে ইতিমধ্যেই মানিয়ে নিয়েছেন। আমেরিকা ও নামিবিয়াকে হারালেও টিম ইন্ডিয়াকে প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর নিজেও ভালো করেই জানেন এই ম্যাচের চাপ কতটা। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং পুরোপুরি ব্যর্থ। দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুটা ভালো, কিছুটা ‘কালো’ ভারতীয় ব্যাটিং। নাহলে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়ার রান ২৪০-এ পৌঁছত। মনে রাখতে হবে, শ্রীলঙ্কায় কিন্তু ফ্ল্যাট ব্যাটিং পিচ নাও পেতে পারে ভারত।
সর্বশেষ খবর
