Cristiano Ronaldo | মায়ামির টানেলে শৈশবের নায়ক, চোট-আঘাতে জর্জরিত রডরিগোকে তাতালেন রোনাল্ডো

Cristiano Ronaldo | মায়ামির টানেলে শৈশবের নায়ক, চোট-আঘাতে জর্জরিত রডরিগোকে তাতালেন রোনাল্ডো

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, মায়ামি: ডান হাঁটুর লিগামেন্ট এবং মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ায় গত মার্চেই অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায় নামার স্বপ্নটা আপাতত অধরাই রয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের তরুণ তুর্কি রডরিগোর। কিন্তু বিশ্বকাপের এই মোহনীয় হাতছানি কি আর এড়ানো যায়? তাই দর্শক হিসেবেই তিনি ছুটে এসেছেন আমেরিকায়। আর মায়ামিতে পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া ম্যাচের শেষে হার্ড রক স্টেডিয়ামের টানেলে জন্ম নিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। শৈশবের ‘সুপারহিরো’ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল রডরিগোর (Cristiano Ronaldo)

রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে রোনাল্ডোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মাতাতে দেখেই তো রডরিগোর রিয়াল-প্রেম শুরু। পর্তুগিজ মহাতারকার আইকনিক ‘সিউউউ’ সেলিব্রেশন নকল করে নিজের গোল উদযাপন করেন তিনি। এমনকি আজও মাঠে নামার আগে রোনাল্ডোর ভিডিও দেখে নিজেকে তাতিয়ে নেন। সেই চেনা আদর্শকে টানেলে দেখতে পেয়েই এগিয়ে যান ব্রাজিলীয় তরুণ। সৌজন্যের তোয়াক্কা না করে রোনাল্ডোও পরম স্নেহে জড়িয়ে ধরেন তাঁকে। রডরিগোর হাঁটুর চোটের খোঁজখবর নিয়ে ‘দাদা’-র মতো প্রাজ্ঞ পরামর্শ দেন, ‘চিন্তা কোরো না। একটু ধৈর্য ধরো, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ নিজের আদর্শের সঙ্গে কাটানো সেই মুহূর্তের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে রডরিগো লিখেছেন, ‘আমার আদর্শ।’

কিন্তু টানেলের এই আবেগের রেশ মাঠের ভেতরে এলেই যেন ফিকে হতে শুরু করেছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে রোনাল্ডো আজও ঈশ্বর হলেও, তাঁর প্রাক্তন সতীর্থরা কিন্তু বাস্তবটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে রোনাল্ডোর সঙ্গে খেলা উরুগুয়ের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার দিয়েগো ফোরলান যেমন সরাসরি তোপ দেগেছেন তাঁর বর্তমান খেলার ধরন নিয়ে। ফোরলানের মতে, রোনাল্ডোর এই ‘নম্বর নাইন’ হিসেবে মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকার জেদই পর্তুগালের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফোরলান বলছেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো এখন নীচে নেমে বল ধরতে পারে না। ও চাইছে শুধু বক্সের কাছে দাঁড়িয়ে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে। ও ভাবছে, গোলপোস্টের কাছে থাকলেই সুযোগ বেশি। কিন্তু এতে আসলে দলেরই ক্ষতি হচ্ছে। বিপক্ষের দুই সেন্টার ব্যাক রোনাল্ডোকে মাঝখানে আটকে রাখছে, ফলে পর্তুগালের অন্য খেলোয়াড়রা বল বাড়ানোর কোনও জায়গাই পাচ্ছে না।’ উরুগুয়ে কিংবদন্তির স্পষ্ট পরামর্শ, ‘রোনাল্ডোকে একটু ধারের দিকে সরতে হবে, যাতে অন্যরা ভেতরে ঢুকে জায়গা তৈরি করতে পারে। সব আক্রমণ বড্ড একপেশে হয়ে যাচ্ছে। ওকে বুঝতে হবে যে, অন্যদেরও খেলাটা তৈরি করতে দিতে হবে।’

ফোরলানের এই কথাগুলি শুনতে খারাপ লাগলেও, মায়ামির মাঠে এটাই এখন রূঢ় বাস্তব। দুর্বল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল ছাড়া গোটা টুর্নামেন্টেই রোনাল্ডো কার্যত নিষ্প্রভ। নকআউটে ক্রোয়েশিয়ার মতো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে নামার আগে এই ৪১ বছরের মহাতারকা নিজের খেলার ধরনে কোনও বদল আনেন কি না, এখন সেটাই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *