উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি জয়ের জন্য মেক্সিকো সমর্থকদের যে হাহাকার ছিল, তা আজ মুছে গেল আজতেকা স্টেডিয়ামের গর্জনে (Ecuador vs Mexico)। প্রবল বৃষ্টির কারণে এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হওয়া ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল আয়োজক দেশ মেক্সিকো। এই জয়ে যেমন দীর্ঘতম এক আক্ষেপ মিটল, তেমনি ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরার হাত ধরে ইতিহাসের পাতাতেও নাম লেখাল তারা।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে শেষবার মেক্সিকো নকআউট পর্বে জয় পেয়েছিল বুলগেরিয়ার বিপক্ষে। কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচটিও ছিল ২-০ গোলের। ৪০ বছর পর সেই একই স্টেডিয়ামে, একই ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে রাউল হিমিনেজ–হুলিয়ান কিনিয়োনেসরা এক নতুন ইতিহাস রচনা করলেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেক্সিকো গ্রুপ পর্বে কোনো গোল হজম না করে দাপটের সঙ্গে নকআউটে পৌঁছেছিল, সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল নকআউটের মরণবাঁচন ম্যাচেও।
ম্যাচের শুরু থেকেই কার্যকর ফুটবল খেলে মেক্সিকো। বলের দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও (৪৪.৩ শতাংশ), আক্রমণে তারা ছিল অনেক বেশি ধারালো। ম্যাচের ২২ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে এক দারুণ আক্রমণে উঠে আসেন মেক্সিকোর উইঙ্গার হুলিয়ান কিনিয়োনেস। তাঁর ডান পায়ের জোরালো শট সরাসরি জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতায় গ্যালারি।
৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দলের বহু যুদ্ধের সেনানী রাউল হিমিনেজ। বক্সের ভেতর ঢুকে কিনিয়োনেসের দেওয়া নিখুঁত ফিরতি পাস থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে গোল করেন এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ায় ইকুয়েডর কার্যত খেই হারিয়ে ফেলে। দ্বিতীয়ার্ধে তারা লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর জমাট রক্ষণের সামনে তা ব্যর্থ হয়। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯৫ মিনিট) উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের জেরে ইকুয়েডরের সেন্টার–ব্যাক পিয়েরো হেনকাপিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে তাঁদের বিদায় নিশ্চিত হয়।
এই ম্যাচটি ছিল অনেক কারণেই বিশেষ। মেক্সিকোর হয়ে অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে এক অনন্য নজির গড়লেন ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকার কৃতিত্ব অর্জন করলেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
এই জয়ে বিশ্বকাপে আজতেকা স্টেডিয়ামে টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল মেক্সিকো। এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ কারা হবে—সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং ডিআর কঙ্গোর ম্যাচের ফলের দিকে। তবে ঘরের মাঠে যেভাবে দাপট দেখাচ্ছে মেক্সিকো, তাতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখাই স্বাভাবিক সমর্থকদের।

