তন্দ্রা চক্রবর্তী দাস, কোচবিহার: জেলা শাসককে ভুটানের নম্বরের গাড়ির অবৈধ চলাচলের (Unlawful Transport) বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিল রাজ্যের পরিবহণ ডাইরেক্টরেট। এই মর্মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের তরফে জেলা শাসকের দপ্তরে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ, রাজ্যের মধ্যে বেআইনিভাবে স্থানীয় পণ্য পরিবহণ করছে ভুটানের নম্বরের গাড়ি। এছাড়া অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যাওয়া-আসা করছেন চালকরা। এ ধরনের বেশকিছু অভিযোগ ওঠে সম্প্রতি। ফলে গত মঙ্গলবার ফেডারেশন অফ ওয়েস্টবেঙ্গল ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয় পরিবহণমন্ত্রীকে। সেই চিঠিতে তারা জানায়, ভারতীয় আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে শুধু পণ্য খালাস করতে পারে বিদেশি গাড়ি। কিন্তু অন্য কোথাও এই কাজ করতে পারা যায় না। অথচ কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় এমন বেআইনি কাজ নিয়মিত চলছে। এতে স্থানীয় পণ্য পরিবহণ ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। এমনকি, প্রশাসনের একাংশ এর সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ করা হয় সেই চিঠিতে। আরও অভিযোগ করা হয়, ওই গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গের জেলা থেকে পাথর তুলছে। এরপর ভারতের কিছু গাড়ি ভুটান থেকে পাথর নিয়ে এসে এইসব জেলায় ফেলছে। এই গাড়িগুলোর কোনওরকম বৈধ নথিপত্র নেই। ফলে শুধুমাত্র গাড়ির ব্যবসায়ী নয়। ড্রাইভার, হেল্পার সকলেই কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।
এ বিষয়ে ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সজল ঘোষ বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে এই ধরনের বেশকিছু অভিযোগ করে আসছি। কিন্তু প্রশাসন এতদিন উদাসীন ছিল। এবার যখন আমাদের চিঠিতে তাঁরা সাড়া দিয়েছেন, আশা করছি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে যঁারা শুধু পণ্য পরিবহণ ও গাড়ির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাঁদের সংসার বেঁচে যাবে।’ কোচবিহারের আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিক নবীনচন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘আমরা নিয়মিত নজরদারি চালাই। বিশেষ করে ওভারলোডিং-এর বিষয়টিতে নজর রাখি। তবে এখন থেকে অনেক বেশি সজাগ হতে হবে।’ কোচবিহারের জেলা শাসক রাজু মিশ্রকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ট্রান্সপোর্ট ডাইরেক্টরেট থেকে চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
