কোচবিহার: তোর্ষার এই রূপ আগে কোনওদিন দেখা যায়নি, রবিবার সকালে এই কথাটাই শোনা গেল বাঁধের পাড় এলাকার বাসিন্দাদের মুখে। কোচবিহার শহর এবং শহর লাগোয়া তোর্ষা নদীর ফাঁসির ঘাট এবং বিসর্জন ঘাটে তোর্ষা নদীর ভয়াবহ রূপ দেখে তাই আতঙ্কিত সকলে। ইতিমধ্যে শহর লাগোয়া বাঁধের পাড়ের অধিকাংশ বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। তারপরে দিনভর তোর্ষা নদীর জল যেভাবে বেড়ে চলেছে এবং বড় বড় ঢেউ নদীতে যেভাবে আছড়ে পড়ছে, তাতে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
জেলা শাসক অরবিন্দকুমার মিনা বলেন, ‘আবহাওয়ার যা রিপোর্ট আছে তাতে রবি এবং সোমবার কোচবিহারে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সকলকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীগুলিতে যাতে কাঠ বা মাছ ধরতে কেউ না যান, সেজন্যও সকলকে আমরা অনুরোধ করছি।’
এছাড়া পাহাড় থেকেও আরও জল ছাড়া হতে পারে। ইতিমধ্যে ভুটান সরকারের তরফে এই নিয়ে কোচবিহারকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে, জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করায় ইতিমধ্যে কোচবিহারের তোর্ষা এবং মাথাভাঙ্গায় মানসাই নদীতে লাল সংকেত জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির জেরে সবমিলিয়ে অশনিসংকেত দেখছেন কোচবিহারবাসী।
উত্তর-পূর্ব ইরিগেশন সার্কেল ওয়ানের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার অসীম চৌধুরী বলেন, ‘কোচবিহারের তোর্ষা এবং মাথাভাঙ্গার মানসাই নদীতে লাল সংকেত জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহার শহরের ১৩টির মধ্যে ১০টি স্লুইস গেট আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।’
রবিবার সকালে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই গোটা শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। শহরবাসী শতরূপা দে বলেন, ‘এত বছর ধরে কোচবিহারে রয়েছি, কিন্তু তোর্ষার এমন ভয়াবহ রূপ আগে কোনওদিন দেখিনি। এর উপর আরও ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খুবই ভয়ে ভয়ে রয়েছি।’ একই কথা বললেন তোর্ষা নদীর খাগরাবাড়ির বাঁধের ধারের বাসিন্দা পুচকা দাস। রাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কোথায় থাকবেন, সেটাই ভাবছেন তিনি।
