উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিড়ি নিয়ে বচসা। আর তার জেরেই নৃশংস ভাবে খুন হতে হল এক বছর ২৬-এর যুবককে। রায়পুরের অভানপুর এলাকার অমনের গ্রামে এমনই এক চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী খুনের রহস্যের কিনারা করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার ২৬ বছর বয়সী সোনু পালকে হত্যার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে গোদা পুলের কাছে একটি নালায় তাঁর মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার হওয়া তিন অভিযুক্ত হল সুমিত বান্দে (২৬), অজয় রাত্রে (২৪) এবং গুলশান গাইকোয়াড় (২৬)। জেরার মুখে তারা খুনের কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, স্থানীয়রা নালায় একটি মৃতদেহ আবিষ্কার করে, যার মাথা ও মুখে গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তদন্তে জানা যায়, ভোঁতা কিছু দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়েছিল সোনু পালকে। ঘটনায় পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ১০৩ এবং ৩(৫) এর অধীনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) ডঃ লাল উমেদ সিং এই মামলাটি সমাধানের জন্য অতিরিক্ত এসপি বিবেক শুক্লা, অতিরিক্ত এসপি (ক্রাইম) সন্দীপ মিত্তল এবং ডিএসপি সঞ্জয় সিং-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের দল গঠন করেন। দলটি প্রথমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তকরণ, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গ্রাউন্ড লেভেলের অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিকে অভানপুরের গাতাপারা গ্রামের বাসিন্দা সোনু পাল হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সনু-এর শেষ গতিবিধি অনুসরণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি অভানপুরের একটি মদের দোকানের বাইরে মদ্যপান করছিলেন। সেখানেই আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ একটি ঝগড়া শেষপর্যন্ত প্রাণঘাতী মোড় নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের মতে, গত বৃহস্পতিবার একটি বিড়ি নিয়ে ঝগড়ার জেরেই বান্দে, রাত্রে এবং গাইকোয়াড় সোনু পালকে খুন করে। ঘটনা প্রসঙ্গে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “অভিযুক্ত এবং নিহত ব্যক্তি আলাদাভাবে মদ খাচ্ছিলেন। সোনু পাল (নিহত) তাদের (অভিযুক্তদের) কাছে একটি বিড়ি চেয়েছিলেন। তারা দিতে অস্বীকার করলে তিনি ঝগড়া শুরু করেন। পরে তারা সোনুকে মাদক দেওয়ার নাম করে গোদা পুলের কাছে নালার কাছে নিয়ে যায়।”
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত ত্রয়ী প্রথমে তাদের মুষ্টি ও ধাতব ব্রেসলেট দিয়ে সোনুকে মারধর করে এবং পরে একটি পাথর দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এরপর সোনুর দেহটি নালায় ফেলে দেয় তারা। এসএসপি ডঃ লাল উমেদ সিং জানান, বান্দে, রাত্রে এবং গাইকোয়াড়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ এই অপরাধকে ছোটখাটো ঝগড়া কীভাবে অর্থহীন হত্যাকাণ্ডে পরিণত হতে পারে, তার এক ভয়াবহ উদাহরণ হিসাবে বর্ণনা করেছে। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে নিহতের আগে থেকে কোনও শত্রুতা ছিল না।
