‘মিঠাই’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর বাঙালির ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছেন আদৃত রায়। ধারাবাহিকের গণ্ডি পেরিয়ে ‘বেপরোয়া’র মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশের সুযোগ। গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখেছে আদৃতের প্রথম ছবি। মেগার দৌলতে আদৃতের একটা বিরাট ফ্যানবেস রয়েছে। বড় পর্দার নায়ক হিসেবে তাঁকে দেখতে মুখিয়ে ছিল অগণিত ভক্ত। ‘বেপরোয়া’ মুক্তির পর দর্শকমহলে বেশ ভালোই সাড়া পেয়েছে। বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহে ঝুলেছিল হাউসফুল বোর্ডও। কিন্তু, মুহূর্তে সবকিছু ওলোটপালট। কলকাতার একাধিক হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হল আদৃতের ‘বেপরোয়া’।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় অত্যন্ত হতাশ, তবে এই দ্বিচারিতা মুখ বুজে মেনে নিতে নারাজ আদৃত রায়। ইন্ডাস্ট্রির কাদের দিকে আঙুল তুললেন অভিনেতা? সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আদৃত। কোনওরকম প্রচার বা প্রিমিয়ার ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ‘বেপরোয়া’। তবুও দর্শকের এত ভালো সাড়া পেয়ে খুশি হয়েছিলেন সিনেমার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকে। আগামী দিনে সিনেমার আরও অনেক বেশি সাফল্য কামনা করেছিলেন। অচীরেই এভাবে স্বপ্নভঙ্গ হয়ে যাবে সেটা একেবারে ভাবনাতীত।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় একদিকে যেমন মনোক্ষুন্ন হয়েছেন ঠিক তেমনই রাগে-অভিমানে ফুটছেন আদৃত। সমাজমাধ্যমের পোস্টের প্রতিটি পংক্তিতেই আদৃতের রাগের বর্হিপ্রকাশ একদম স্পষ্ট। আদৃতের কথায়, ‘আমাদের ছবি বেপরোয়াকে প্রচার করা হয়নি। ইন্ডাস্ট্রির সেই দাদা-দিদিরা যাঁরা নাকি নতুনদের সবসময় স্বাগত জানান, ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেন তাঁদের সমর্থনও পাইনি। আমাদের জন্য একবারও ট্যুইট করার সময় হয়নি কারও। কোনও স্ক্রিনিং বা প্রিমিয়ারও হয়নি যেখানে বিখ্যাত মানুষরা এসে ছবির প্রশংসা করবেন, এমনকি ছবিটা তাঁদের ভালো না লাগলেও! কলকাতার বেশিরভাগ হল থেকেই আমাদের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলা সিনেমার দর্শক ছবি ভালো লাগার পর তার পাশে দাঁড়ানোর সময় পান না।’
তবে যাঁরা ‘বেপরোয়া’ দেখেছেন, ভালোবেসেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আদৃতের সংযোজন, ‘বেপরোয়া যাঁরা দেখছেন, যাঁরা ভালোবাসা দিয়ে দেখছেন, যাঁরা দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন আপনাদের প্রত্যেককে মন থেকে ধন্যবাদ। আজ আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভালো রিভিউ দিয়েছেন। আর সেই কারণেই দ্বিতীয় সপ্তাহেও আমাদের শো হাউসফুল যাচ্ছে, কোনও ম্যানিপুলেশন ছাড়াই। সিনেমা ভালো বানাতে পারলে শেষ পর্যন্ত শুধু দর্শকের ভালোবাসা আর সমর্থনই দরকার। আর কারও নয়।’ পোস্টের শেষলগ্নে ধন্যবাদ জানিয়ে আদৃতের বক্তব্য, ‘বঙ্গললনাস, বঙ্গমাতাস, বঙ্গসিস্টার্সস, বঙ্গ ব্রাদার্সসদের ধন্যবাদ। আপনারা যা করেছেন, তার কোনও বিকল্প নেই। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বেপরোয়া উপভোগ করতে থাকুন!’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
