কোচবিহার: কোচবিহার (Cooch Behar) পুরসভা নিয়ে জটিলতা আরও বাড়ল! পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা (Dilip Saha) চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পদত্যাগ করবেন বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন। এরই মধ্যে সোমবার সেই দিলীপের বিরুদ্ধেই অনাস্থা নিয়ে সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরে হাজির হলেন অধিকাংশ কাউন্সিলাররা। এদিন ১৩ জন কাউন্সিলারের স্বাক্ষর সম্বলিত অনাস্থার চিঠি সদর মহকুমা শাসককে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সেই অনাস্থা জমা পরার পরই দিলীপ সাহা ই-মেইল মারফত সদর মহকুমাশাসকের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। ফলে পুরসভার ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে আপাতত জটিলতা রয়েই গেল। পুরসভায় এখন কী পদক্ষেপ করা হবে তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে চাননি সদর মহকুমাশাসক গোবিন্দ নন্দী। তবে প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ১৩ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত অনাস্থাপত্র জমা পড়েছে। এরপর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।
পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহার কথায়, ‘আমি আগেই জানিয়েছিলাম সোমবার বা মঙ্গলবার পদত্যাগ করব। আমি অসুস্থ থাকায় স্ত্রীকে দিয়ে ইস্তফাপত্র সদর মহকুমাশাসকের দপ্তরে পাঠিয়েছিলাম। সে গিয়ে দেখে সেখানে কাউন্সিলারদের ভিড়। তাই ফিরে এসেছে। পরে আমি ই-মেইল করে ইস্তফাপত্র সদর মহকুমাশাসককে পাঠিয়েছি।’ কাউন্সিলাররা কেন অনাস্থা আনলেন সেবিষয়ে তার জানা নেই বলে দিলীপ জানিয়েছেন।
দিলীপের ইস্তফা দেওয়া নিয়ে বেশকয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই পুরসভায় প্রভাব বিস্তার করেছে বিজেপি (BJP)। কিন্তু তাদের কোনও কাউন্সিলার না থাকায় কার্যত প্রশাসন দিয়েই পুরসভা চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তাই প্রথমে রাজি না থাকলেও দুদিন আগে বাড়িতে হামলার পর দিলীপ ঘোষণা করেন তিনি ইস্তফা দেবেন। এরমধ্যেই সোমবার বিকেলে পুরসভায় হাজির হন বেশকয়েকজন কাউন্সিলার। এরপর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার শুভজিৎ কুণ্ডুর নেতৃত্বে কাউন্সিলার চন্দনা মোহন্ত, যূথিকা সরকার, কমলেশ গোস্বামী, মিনতি বড়ুয়া, শম্পা রায়, অভিজিৎ মজুমদার, মোস্তাক আমেদ অর্থাৎ মোট আটজন সদর মহকুমাশাসকের দপ্তরে যান। সেখানে অনাস্থার চিঠি দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, এই আটজন বাদেও অনাস্থায় ভাইস চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদ, কাউন্সিলার মায়া সাহা, শুভ্রাংশু সাহা, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও রেবা কুণ্ডুর স্বাক্ষর রয়েছে।
সেখান থেকে বেরিয়ে এসে শুভজিৎ কুণ্ডু বলেন, ‘মোট ১৩ জন কাউন্সিলারের স্বাক্ষর সহ অনাস্থার চিঠি দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান কয়েকদিন ধরে পুরসভায় আসছেন না। তাতে পরিষেবায় ক্ষতি হচ্ছে। কাজ করতেও ব্যর্থ। তাই আমরা অনাস্থা আনলাম।’

