Donald Trump | ‘ইরানে এবার নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে’, খামেনেইকে সরাসরি গদি ছাড়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

Donald Trump | ‘ইরানে এবার নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে’, খামেনেইকে সরাসরি গদি ছাড়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক চরম পর্যায়ে পৌঁছাল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর (Ayatollah Ali Khamenei) কয়েক দশকের শাসনের অবসান চেয়ে সরাসরি সরব হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুক্রবার যেখানে খামেনেই সরকারের প্রশংসা শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে, শনিবার সেখানেই ঠিক উলটো সুর। ট্রাম্পের সাফ কথা, ইরানে ৩৭ বছরের রাজত্বের ইতি টানার সময় এসে গিয়েছে; দেশটিতে এখন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন (New Management Iran)।

ট্রাম্পের এই সুরবদলের নেপথ্যে রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। শনিবার খামেনেই সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানে অস্থিরতা ও হত্যালীলার জন্য দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকা কয়েকটি হিংস্র গোষ্ঠীকে ইরানি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে ‘ভয়াবহ অপবাদ’ দিচ্ছে। খামেনেই স্পষ্ট জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে গণ্য করেন এবং অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে ছাড়া হবে না।

এরপরই এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খামেনেইয়ের এই পোস্টগুলো পড়ার পরেই মেজাজ হারান ট্রাম্প। তিনি পালটা বলেন, ‘ইরানে এবার নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’ ট্রাম্পের কথায়, ‘খামেনেই দেশজুড়ে মৃত্যুভয় ছড়িয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। নেতৃত্ব গড়ে ওঠে শ্রদ্ধার ভিত্তিতে, ভয় বা মৃত্যুর ওপর ভিত্তি করে নয়। নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে হাজার হাজার মানুষকে মেরে ফেলা যায় না।’ খামেনেইকে ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ বলে কটাক্ষ করে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর দুর্বল ও হিংস্র শাসনের কারণেই ইরান আজ বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট বসবাসযোগ্য স্থানে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, প্রকৃত নেতৃত্ব সম্মান দিয়ে অর্জিত হয়, ভয় দেখিয়ে বা মৃত্যু দিয়ে নয়।

ইরানে নতুন নেতা হিসেবে কাকে দেখা যেতে পারে, সে বিষয়ে এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বললেও, সম্প্রতি নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পহলভির নাম আলোচনায় এনেছিলেন তিনি। তবে পহলভির জনসমর্থন নিয়ে ট্রাম্প এখনও কিছুটা সন্দিহান।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বর্তমান শাসনব্যবস্থা বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গত তিন সপ্তাহে বিক্ষোভে হাজার হাজার আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছেন। ইরান সরকারের অভিযোগ, এই অশান্তির নেপথ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হাত রয়েছে। খামেনেইর দাবি, বিদেশি মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোই দেশে অরাজকতা ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে আমেরিকা কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে ট্রাম্প আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। যদিও শুক্রবার তিনি তেহরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইরান গণ-ফাঁসির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে তেহরান অবশ্য ফাঁসির পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই সরাসরি শাসন পরিবর্তনের ডাক মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে (US-Iran Relations)।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *