CM Suvendu Adhikari | ভাষার জন্য হচ্ছে কমিটি, শুভেন্দুর সভায় জীবনের জয়ধ্বনি

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: রাজবংশী না কামতাপুরি- ভাষার নাম ঠিক করতে কমিটি গঠনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। ভাষাটিকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব সেই কমিটির। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে ভাষার দুই নামের দাবিদারদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গের সচিবালয় উত্তরকন্যায় ওই বৈঠকে তাঁর উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) প্রধান জীবন সিংহের নামে জয়ধ্বনিও ওঠে।

তার আগে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী জীবনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন বৈঠকে উপস্থিত ৮৫টি রাজবংশী সংগঠনের ৩৫৫ জন প্রতিনিধির সামনে। মাত্র দু’দিন আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের উপস্থিতিতে কোচবিহারে রাজবংশী মহাসংঘ তৈরি হয়েছে। রাজবংশী ও কামতাপুরি নামে বিভিন্ন সংগঠনের কার্যত যৌথ মঞ্চ ওই মহাসংঘেও ভাষার নাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার উত্তরকন্যার বৈঠকটি ছিল পূর্বনির্ধারিত। রাজবংশী না কামতাপুরি- কী নাম হবে ভাষার ও কোন রূপরেখায় তা সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব, তার খসড়া তৈরি করতে একজন আইএএস, একজন ডব্লিউবিসিএস পদমর্যাদার অফিসার, একজন ভাষাবিদ ও একজন সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞকে নিয়ে এক্সপার্ট কমিটি গড়ে তোলার নির্দেশ দেন শুভেন্দু। রাজবংশী সমাজের বিভিন্ন মতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ওই কমিটিকে খসড়া প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

শুভেন্দু বৈঠকে বলেন, ‘কী নাম হবে ভাষার, সে বিষয়ে যেসব সুনির্দিষ্ট মতামত উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতে সামগ্রিক তথ্য বানিয়ে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা থাকবে। সেটা আমি নিশ্চয় করব।’ কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন পরে বলেন, ‘বর্তমান সরকার উত্তরবঙ্গের রাজবংশী মানুষের সঙ্গে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রেখেছেন। আমরা আশাবাদী, আগামীদিনেও রাখবেন।’

মুখ্যমন্ত্রীর গঠিত কমিটি দ্রুত কাজ করবে বলে জানিয়েছে। খসড়া প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পর তা নিয়ে ২৩ নভেম্বর রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকে আলোচনা হবে। তারপর সেই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল জমানায় রাজবংশী ও কামতাপুরি ভাষার উন্নয়নে দুটি পৃথক আকাদেমি ছিল সরকারের উদ্যোগে। তা নিয়ে বিতর্ক কম নয়। অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে দুটি নাম নিয়ে জটিলতা থাকবে ধরে নিয়ে এক নামে স্বীকৃতি আদায়ের এই চেষ্টা।

মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পিছনে রাজবংশীদের একচেটিয়া সমর্থন বিজেপির পিছনে জড়ো করার পরিকল্পনা আছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু মঙ্গলবারের বৈঠকের শুরুতেই রাজবংশী ও কামতাপুরি- দুই নামের দাবির সপক্ষে উভয়পক্ষ স্লোগান দিতে থাকে। দু’পক্ষ প্রায় ৭০-৮০টি দাবিপত্র ও ঐতিহ্য-ইতিহাস সম্পর্কিত প্রস্তাব পেশ করে। উত্তেজনা প্রশমনে শেষপর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিটি প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে সচিবালয়ে নিয়ে যাবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলির প্রাপ্তিস্বীকার করা হবে।

বৈঠকে কেএসডিসি’র প্রতিনিধি তপতী রায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কেএলও’র নেতা জীবন সিংহের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ আশ্বাস দেন, ‘‘জীবন সিংহ সম্ভবত অসমে রয়েছেন। তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে আমি এই কর্মসূচি শেষ করেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে ফোন করব। তিনি যেন ‘এ’ ক্যাটিগোরির চিকিৎসা পান, আমি সেই ব্যবস্থা করিয়ে দেব ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে।’’

শুভেন্দুর এই কথায় জীবন সিংহের নামে তাঁর একদল সমর্থক সরকারি বৈঠকের মধ্যে জয়ধ্বনি দিতে শুরু করেন। অতীতে একাধিক রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত এক নেতার নামে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই স্লোগান ওঠায় ও শুভেন্দু তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জীবন অবশ্য টেলিফোনে বলেন, ‘আমার শরীর ভালো নেই। চার বছরের বেশি হল আগের মতো হার্ডওয়ার্ক নেই। শরীরচর্চাও নেই। বনে-বাদাড়ে ঘুরেও বেড়াই না। তাই পা দুটি ভারী হয়ে গিয়েছে।’

শুভেন্দু তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে এখনও জীবদ্দশায় কামতাপুর রাজ্য গঠনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখে যেতে চান বলে জানান জীবন। তৃণমূল আমলে তৈরি ২০০টি রাজবংশী স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘শুধু স্কুল ও বেতনহীন প্যারাটিচার দিয়ে ভাষার উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রাজ্য ভাষা হিসেবে এই ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

এর জন্য মন্ত্রীসভার ছাড়পত্র ও প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধনের কথা বলেন তিনি। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনকে রাজবংশী স্কুলের শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে সমন্বয় ও তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে দেওয়া হয়েছে রাজবংশী সমাজের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি দেখভাল করার। সংস্কৃতি ও সামাজিক কল্যাণ, প্রবীণ ও দুঃস্থ শিল্পীদের সহায়তা, বার্ধক্য ভাতা, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং সামাজিক প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মালতী রাভাকে।

রাজবংশীদের বিরুদ্ধে পুলিশি মামলার (খুন ছাড়া) এফআইআর-এর তালিকা সংগ্রহের দায়িত্ব পেয়েছেন আনন্দময়। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি, নথি সংগ্রহ করে আনন্দময় জমা দিলে রাজবংশীদের বেহাত হওয়া জমিও ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন শুভেন্দু।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *