Climate Replace | বর্ষার দেখা নেই কেরলে, চাতক দশায় উত্তর

Climate Replace | বর্ষার দেখা নেই কেরলে, চাতক দশায় উত্তর

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


সানি সরকার, শিলিগুড়ি: মান্না দে’র সেই বিখ্যাত গান ‘আমায় একটু জায়গা দাও…’, প্যারোডি করে অতনু হালদার গাইলেন, ‘… গাছতলায় বসি’। কেউ মৃদু হাসলেন, কেউ আবার হাততালির সঙ্গে উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন। সাতসকালে সূর্যের দৌরাত্ম্য দেখেই শিলিগুড়ির কলেজ মাঠে এমন গান বেঁধেছিলেন প্রাতর্ভ্রমণকারী অতনু। কলেজের চারপাশের রাস্তায় এক পাক দিতে না দিতেই তাঁর মতো বাকিরাও গলদঘর্ম। প্রত্যেকের আলোচনায় ছিল, সোম সন্ধ্যায় মেঘের নিষ্ফলা গর্জন এবং বৃষ্টির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা। তীব্র গরমের জেরে স্থানীয় স্তরে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়ে সাময়িক বৃষ্টি এবং তাপমাত্রার একটু পতনের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্ষার বৃষ্টিতে এখনই যে উত্তরের মাটি ভিজবে না, তা স্পষ্ট আকাশের মতিগতিতে (Climate Replace)। ভিজবেই বা কেমন করে, এখনও যে কেরলেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেনি (Monsoon delay)।

সাধারণত দেশে প্রথম বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয় কেরলে। তারপরই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে উত্তরবঙ্গ (North Bengal) সহ উত্তর-পূর্ব ভারতে। গত বছর ১ জুনের পরিবর্তে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছিল ২৪ মে। ১০ জুনের পরিবর্তে ২৯ মে উত্তরবঙ্গে। ওই ধারা এ বছরও বজায় থাকবে বলে আশায় ছিলেন আবহবিদরা। কিন্তু তাঁদের আশায় জল ঢেলে দিয়েছে দক্ষিণ গোলার্ধের মাসকারিন। সেখানে আগাম তো দূরের কথা, নির্দিষ্ট সময়েও উচ্চচাপ বলয় তৈরি হয়নি। যে কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটছে না ভারতে। মঙ্গলবার পরিস্থিতির একটু বদল ঘটায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বা বৃহস্পতিবার কেরলে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন আবহবিদরা। উত্তরবঙ্গে কবে শুরু হতে পারে বর্ষা? আবহাওয়া দপ্তরের সিকিমের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলছেন, ‘এখনও কেরলেই বর্ষা শুরু হয়নি। কেরলে বর্ষা প্রবেশ করার পর উত্তরবঙ্গ সম্পর্কে কিছুটা পূর্বাভাস পাওয়া যেতে পারে।’ উল্লেখ্য, প্রথমে ২৬ মে এবং পরবর্তীতে ২৯ মে কেরলে বর্ষা শুরুর সম্ভাবনার কথা বলেছিল আবহাওয়া দপ্তর। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

একসময় সাধারণত দিনেরবেলা প্রখর রোদ থাকলেই, সন্ধ্যা বা রাতে উত্তরে বৃষ্টি ছিল অনিবার্য। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনে পালটে গিয়েছে সেই হিসেব। তাই সোমবার বজ্রগর্ভ মেঘের বৃষ্টিতে চম্পাসারি (২২.২ মিলিমিটার), ঝালং (৩৩.৭), গজলডোবা (১৩.৮), হাসিমারা (১০.২), মাথাভাঙ্গার (১০.৮) মতো কিছু এলাকায় বৃষ্টিতে ভিজলেও, অধিকাংশ জায়গা ছিল শুষ্ক। বরং গত দু’দিনের মতো মঙ্গলবারও মালদা থেকে শিলিগুড়ি, কোচবিহার থেকে জলপাইগুড়ি— উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরেছে। আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি ছিল সর্বত্রই। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টিতে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে বুধবার থেকে। হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা শনিবার থেকে। ওই বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে সমস্ত কিছুই নির্ভর করছে কেরলের ওপর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *