মোজতবা খামেনেই কোথায়? তিনি কি বেঁচে রয়েছেন? এই গুঞ্জন আজকের নয়। যদিও শোনা গিয়েছে, তিনি বেঁচে রয়েছেন। গোপন বাঙ্কারে থেকেই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশও নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশ সচিবও একই দাবি করলেন। জানালেন, মোজতবা জীবিত। পাশাপাশি সক্রিয় ভূমিকাও নিচ্ছেন শান্তি আলোচনায়।
মার্কিন সেনেটে বিদেশ-সম্পর্কিত কমিটির সামনে রুবিও জানিয়েছেন, ”এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তিনি ক্রমশ কোনও না কোনও পর্যায়ে যুক্ত হচ্ছেন শান্তি আলোচনায়। যদিও তাঁর সমস্ত যোগাযোগই লিখিতভাবে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
কয়েকদিন আগেই ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছিল, মোজতবা এখন অনেকটাই সুস্থ। তাঁর শরীরে যে ক্ষত ছিল সেগুলি সেরে গিয়েছে। তার হাঁটুতে সামান্য আঘাত রয়েছে। সেটিও শীঘ্রই সেরে যাবে। এছাড়া তাঁর কানেও সামান্য আঘাত রয়েছে। সেগুলি ছাড়া মোজতবার আর কোনও সমস্যা নেই। শত্রুরা ক্রমাগত গুজব ছড়াচ্ছে। আসলে তারা তাঁকে খুঁজছে। কিন্তু সন্ধান পাচ্ছে না। ইরানের সুপ্রিম লিডারকে নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষও। কিন্তু তাঁদের ধৈর্য ধরা উচিত। তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে তিনি জনসমক্ষে আসবেন।
ফের মোজতবার উপরে হামলা হতে পারে এই আশঙ্কায় ইরানও যথেষ্ট সতর্ক থাকছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও অনেকে নাকি জানেন না কোথায় আছেন মোজতবা। এই পরিস্থিতিতে রুবিও দাবি করলেন, মার্কিন হামলায় প্রাণ হারাননি মোজতবা।
এদিকে জানা যাচ্ছে, মোজতবা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধেও সরব হয়ে উঠেছেন কট্টরপন্থীরা। বৃহস্পতিবার ইরানের রক্ষণশীল ধর্মগুরু ও আইনপ্রণেতা হামিদ রাসাই ‘সর্বোচ্চ নেতৃত্বের যোগ্য কে?’ শিরোনামে একটি বার্তা দেন। যেখানে নবী নূহের পুত্রের কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘তিনি ছিলেন একজন অবিশ্বাসী এবং বিদ্রোহী কুলাঙ্গার। ফলে পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেই যে কেউ ধার্মিক হবে, এমনটা নয়।’ আক্রমণের তীর যে মোজতবার দিকে ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবমিলিয়ে একটি অংশ আমেরিকার সঙ্গে শান্তির পথে হাঁটতে চাইলেও ইরানের আর একটি অংশ শান্তিকে ছুড়ে ফেলে যুদ্ধেই আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই অবস্থায় চুক্তির লক্ষ্যে ইরান কোনওরকম আপসের পথে হাঁটলে ইরানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ তৈরি হতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
