উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভকে (CJP Protest) কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে বিক্ষোভকারীদের (Conflict)। এতে দুই এসিপি সহ মোট পাঁচজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন (Delhi Police injured)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) লাঠিচার্জ এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় যন্তরমন্তরের জমায়েত থেকে একটি দল কনৌট প্লেসের টলস্টয় মার্গ (Tolstoy Marg) এলাকায় পৌঁছে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। সেই সময়ই পুলিশ ও র্যাফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট ও কাচের বোতল ছুড়তে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। এই হামলায় কনৌট প্লেসের এসিপি বিবেক ভগৎ সহ বেশ কয়েকজন জওয়ান গুরুতর আহত হন। আহত আধিকারিককে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশের হাতে লাঠি, তলোয়ার ও কুখরির মতো মারাত্মক অস্ত্র ছিল। এমনকি এক পুলিশকর্মীকে ঘিরে ধরে মারধরের চেষ্টা চালায় উন্মত্ত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী বাধ্য হয়ে সীমিত শক্তি প্রয়োগ করে এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এলাকা খালি করে দেয়। গত তিনদিন ধরে চলা এই আন্দোলনে সন্ধ্যার দিকে দুষ্কৃতীরা মিশে অশান্তি পাকাচ্ছে বলে পুলিশের দাবি।
এদিকে, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। সিজেপি জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, বরং নিরপেক্ষ কোনও স্থানেই কেবল সরকারের সঙ্গে আলোচনা বসতে রাজি। পাশাপাশি, আন্দোলনকারী ছাত্র ও যুবকদের বিরুদ্ধে যাতে কোনও নতুন এফআইআর না করা হয়, তার জন্য সরকারি গ্যারান্টি দাবি করেছে দলটি।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন থেকে এনইইটি (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়। পরে এই আন্দোলনে সামিল হন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর আমরণ অনশন ঘিরে এই আন্দোলন বর্তমানে দেশজুড়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিল্লি ছাড়াও বিহার, তামিলনাডু, মহারাষ্ট্র সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ পাঠিয়েছে। আদালতের নির্দেশে ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

