উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষা ও পেপার লিক বিতর্ক নিয়ে অসন্তোষ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) (CJP)-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর মতে, এই ক্ষোভ এখন আর শুধু নির্দিষ্ট একজনের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং পরিস্থিতি (CJP NEET protest) যেদিকে এগোচ্ছে তাতে আগামীদিনে তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) দিকেও মোড় নিতে পারে।
সাক্ষাৎকারে রাঙ্কা বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘টিকিং টাইম বম্ব’ বা আসন্ন টাইম বম্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশজুড়ে যেভাবে প্রতিবাদ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে বিষয়টিকে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়। যত বেশি সময় পেরিয়ে যাবে, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ ততই বাড়তে থাকবে। আর এই ক্ষোভের পারদ ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীর গণ্ডি পেরিয়ে আরও উঁচুর দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। রাঙ্কা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে তারা একচুলও নড়ছেন না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ এবং প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে করা আইনি মামলাগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও, মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে বলেও সরকারি প্রতিনিধি দল ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পেপার লিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তার তীব্র সমালোচনা করেছেন সিজেপি নেতা। তাঁর প্রশ্ন, প্রথম প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কেন সাড়ে চার সপ্তাহ বা প্রায় দুই মাস অপেক্ষা করতে হলো? কেন এত দেরিতে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন? কাঠামোগত সংস্কারের দাবি তোলার পাশাপাশি রাঙ্কা জোরালোভাবে বলেন, যে মন্ত্রী এই সংকটের জন্য সরাসরি দায়ী, তাঁর পদে বহাল থাকা অবস্থায় কোনো অর্থপূর্ণ সংস্কার আলোচনা সম্ভব নয়।
দিন যত এগোচ্ছে, এই আন্দোলন কেবল একটি দলের গণ্ডিতে আটকে নেই, বরং দেশব্যাপী এক বড় জনরোষের রূপ নিচ্ছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

