নয়াদিল্লি: দেশের শীর্ষ আদালত বিচারপ্রার্থীদের জন্য সর্বক্ষণ উন্মুক্ত, তবে আইনি প্রক্রিয়ার শৃঙ্খলা রক্ষা করাও সমান জরুরি—একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই বার্তা স্পষ্ট করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant)। দিল্লি যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত একটি মামলার তড়িঘড়ি শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির “আমাদের সময় নষ্ট করবেন না” মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, তার নেপথ্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট উন্মোচন করেছেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘শীর্ষ আদালত শুনানিতে অস্বীকার করেছে বলে যে খবর চাউর হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। ভারতের সংবিধান ও আইনি ব্যবস্থার প্রতি নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট কোনো মামলার শুনানি প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট—আমরা ২৪ ঘণ্টাই বিচারপ্রার্থীদের জন্য উপলব্ধ।’
ঘটনার মূল প্রসঙ্গে গিয়ে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা করেন যে, তড়িঘড়ি শুনানির আর্জি জানানো সত্ত্বেও আদালতে যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। মাত্র এক পাতার চিঠির ওপর ভিত্তি করে অবিলম্বে জরুরি শুনানি চাওয়া আইনি বিধিসম্মত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট একটি দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও আবেদন পেশ করার নিয়মাবলী রয়েছে, যা কোনো অবস্থাতেই লঙ্ঘন করা সম্ভব নয়। এক পাতার কোনো অসম্পূর্ণ আর্জির ওপর আদালত তাৎক্ষণিক আদেশ জারি করতে পারে না। সেই কারণেই মামলাকারীদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র পেশের বার্তা দিতেই ওই মৌখিক মন্তব্য করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে আবেদনটি যখন সমস্ত সঠিক নিয়মকানুন ও নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো মেনে সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হয়, তখন শীর্ষ আদালত তা গ্রহণ করেছে। আইনের শাসন ও প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আইনই সর্বোপরি, আমাদের সেই নিয়ম মেনেই পথ চলতে হবে। আমি দেশের প্রতিটি নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই—কারো সঙ্গে কোনো অন্যায় হলে, আইনসম্মত উপায়ে সুবিচার পৌঁছে দিতে সুপ্রিম কোর্ট নিজের ক্ষমতার সবটুকু প্রয়োগ করবে।”

