উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ আইনি লড়াইয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেও এখনই কারাগার থেকে মুক্ত হচ্ছেন না বাংলাদেশে জেলবন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী তথা ‘হিন্দু সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোট’-এর মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna Das Bail)। রবিবার বাংলাদেশের হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ভাঙচুর এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার দুটি নতুন মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর মামলা ঝুলে থাকায় এখনই তাঁর জেলমুক্তি হচ্ছে না।
চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। রবিবারের দুটি মামলা নিয়ে ইতিমধ্যেই হাইকোর্ট থেকে মোট চারটি মামলায় জামিন পেলেন তিনি। কিন্তু বাকি মামলাগুলির মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে জামিনের ওপর এখনও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে। পাশাপাশি, চট্টগ্রামের সরকারি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের মামলার বিচার প্রক্রিয়া বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকায় অন্য কয়েকটি মামলায় জামিন মিললেও তাঁর কারামুক্তির পথ আটকে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর সেই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা ও ভাঙচুর সহ আরও একাধিক নতুন মামলা রুজু হয়। বিশেষ করে চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভের সময় সরকারি আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে, যে ঘটনায় পরবর্তীতে চিন্ময়ের নামও খুনের মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, চিন্ময়কৃষ্ণ এক সময় ইসকন (ISCKON)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি ‘হিন্দু সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোট’-এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার্থে ওই সংগঠনের ব্যানারে একাধিক সভা ও আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারির সময় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত এবং ঢাকার কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জোরালো আর্জি জানিয়েছিল দিল্লি। সব মিলিয়ে, রবিবারের হাইকোর্টের রায়ের ফলে আইনি লড়াইয়ে চিন্ময়কৃষ্ণ দাস কিছুটা এগিয়ে গেলেও, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার স্থগিতাদেশ ও আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার চলায় তাঁর বন্দিদশা কাটার জন্য দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

