সামসী: বাবার চোখের সামনেই মর্মান্তিক মৃত্যু হল মেয়ের। শুক্রবার চাঁচলের (Chanchal) খেলেনপুর মাদ্রাসা মোড়ে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মৃতার নাম তাবাসসুম জাহান (১৭)। সে কলিগ্রাম হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী (Scholar) ছিল।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাবাসসুমদের আদিবাড়ি রতুয়া-২ ব্লক তথা পুখুরিয়া থানার গোসাইপুর এলাকায়। বর্তমানে চাঁচলের বিধানসরণি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে সপরিবারে থাকতেন তাঁরা। শুক্রবার হরিশ্চন্দ্রপুরের দৌলতপুরে নানার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাবা তালেব মিয়ার বাইকে চেপে বেরিয়েছিল তাবাসসুম। খেলেনপুর মাদ্রাসা মোড়ের কাছে সংযোগকারী রাস্তা থেকে মূল সড়কে ওঠার সময় হরিশ্চন্দ্রপুরের দিক থেকে আসা একটি লরির সঙ্গে বাইকের ধাক্কা লাগে (Highway Accident)। রাস্তায় পড়ে যান বাবা-মেয়ে দুজনেই। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাবাসসুমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহটি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর দাদাভাই মার্কেট সংলগ্ন মাদ্রাসা মোড়ে লরি দাঁড় করিয়ে পণ্য নামানোর অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন মৃতের পরিবার ও স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ,ওই এলাকায় ব্যবসায়ী পঙ্কজ ডালমিয়ার গোডাউন রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন সড়কের ধারে লরি দাঁড় করিয়ে পণ্য নামানো হয়। ফলে সংযোগকারী রাস্তা থেকে মূল সড়কে ওঠা যানবাহন চালকদের নজরে আসে না।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, “প্রতিদিন সেখানে লরি দাঁড় করিয়ে পণ্য নামানো হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি সংযোগকারী রাস্তা থেকে কে আসছে, তা দেখা যায় না। প্রশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
মেয়েকে হারিয়ে বাবা তালেব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম, ভাবিনি এটাই ওর সঙ্গে আমার শেষ যাত্রা হবে। চোখের সামনে মেয়েকে হারালাম, অথচ কিছুই করতে পারলাম না। আমার মেয়েটা পড়াশোনা করে অনেক বড় হতে চেয়েছিল।” ঘটনার ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়েছেন মৃতার মা।ইতিমধ্যে লরিটিকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চাঁচল থানার পুলিশ।

