উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআরের (SIR) নাম করে বাংলায় একজন যোগ্য ভোটারের নামও যেন বাদ না যায়। বরাবরই এনিয়ে সরব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার অভিষেক জানিয়েছিলেন, এবার দিল্লির বুকে এসআইআর বিরোধী আন্দোলনে নামবে তৃণমূল (TMC)। শুক্রবার দিল্লিতে (Delhi) ডেরেক ও ব্রায়েনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে জরুরি বৈঠক করতে গেলেন তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
এদিন বৈঠক শেষে ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, ‘এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের কাছে আমাদের পাঁচটি প্রশ্ন রেখেছিলাম। কমিশন তার সদুত্তর দিতে পারেনি। আমরা বলেছি, তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করা যাবে না, এখনই এই প্রক্রিয়া স্থগিত করা হোক।’
এদিন তৃণমূলের তরফে কমিশনের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন রাখা হয়। বৈঠক শেষে বাইরে এসে দলের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, ‘আমরা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এসআইআর এর উদ্দেশ্য কী? ভুয়ো ভোটার নাকি অনু্প্রবেশকারীদের ধরা? তাই যদি হবে তাহলে দেশের সীমান্তবর্তী বাকি রাজ্যগুলিতেও কেন এসআইআর হচ্ছে না? বেছে বেছে বাংলাতেই কেন?’ বৈঠকে তথ্য তুলে ধরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়, এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পাহাড় প্রমাণ কাজের চাপে এবং আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একাধিক বিএলও কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কমিশনের কাছে তাঁরা এও অভিযোগ জানান, নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সংস্থা কেন নিজেদের মতো কাজ না করে বিজেপির কথা মতো চলছে?। সম্প্রতি বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে অত্যাচার করার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে এসআইআর এর যোগসূত্র নিয়েও কমিশনের কাছে জানতে চান তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।
ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে এসেছি, আমাদের প্রশ্নের সদুত্তর না দেওয়া পর্যন্ত বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হোক।’ একইসঙ্গে তাঁরা এও জানান, একজন প্রকৃত ভোটারেরও নাম বাদ গেলে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করা হবে। এদিন ডেরেক ও ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায় সহ তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে বৈঠক করেন।
