CEC resignation protest | মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী, আপ নেতা সহ বেশ কয়েকজন আটক

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবিতে (CEC resignation protest) এবার দেশের দুই প্রান্তে জোড়া আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP)। একই সঙ্গে জাতীয় রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরেও এক অবস্থান-বিক্ষোভের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিভিন্ন ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠন। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। যন্তর মন্তর চত্বর সহ পুরো নয়াদিল্লিজুড়ে ১৬৩ ধারা বলবৎ করে পাঁচ বা তার অধিক মানুষের জমায়েতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

শুক্রবার সকালে যন্তর মন্তর এলাকা রণক্ষেত্র রূপ নেয়, যখন আম আদমি পার্টি বা আপ (AAP) সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বাধে। এর জেরে দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ সহ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যন্তর মন্তর চত্বরে কোনো রকম বিক্ষোভ প্রদর্শন বা সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। যন্তর মন্তরে আসার বিভিন্ন প্রবেশপথে একাধিক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে চলছে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি। পুলিশ ও বিএসএফ জওয়ানরা চালকদের যাত্রাপত্রের গন্তব্য সম্পর্কে জেরা করছেন এবং গাড়ি ও চালকদের সমস্ত তথ্য নোটবুকে টুকে রাখা হচ্ছে। এমনকি এই সংঘাতের মাঝেই যন্তর মন্তর চত্বরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

আপ শিবিরের দাবি, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি চেয়ে তারা ছ’দিন আগেই পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছিল, কিন্তু পুলিশ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। তা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যায় ছাত্র, যুব ও মহিলারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হবেন বলে জানিয়েছেন আপ নেতা সৌরভ। অন্যদিকে, দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে কনট প্লেস, পটেল চক, তলস্তয় মার্গ ও সংসদ ভবন সংলগ্ন চত্বরগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে যন্তর মন্তরের আশপাশের নয়াদিল্লি, লোককল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সেবাতীর্থ, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও প্যাটেল চক সহ মোট এগারোটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, সিজেপি জানিয়েছে যে মুম্বইয়ের পর তাদের এই প্রতিবাদী ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও রূপায়ণ করা হবে। সংগঠনের প্রধান দীপকে জানিয়েছেন, যতদিন না জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করছেন, ততদিন এই আন্দোলন লাগাতার চলবে। ঠিক যেভাবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তর চত্বরে নিট প্রশ্ন ফাঁস মামলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আন্দোলন চলেছিল, এটিও সেই রূপ নিতে চলেছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও দেশজুড়ে শুক্রবার থেকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযান শুরুর ঘোষণা করেছে। আগামী ৮ অক্টোবর জেলা স্তরে দেশজুড়ে পদযাত্রা ও জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই সমস্ত দেশজোড়া আন্দোলনের আবহেই আগামী ৬ তারিখে সমস্ত বিরোধী সাংসদদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভবন অভিমুখে এক প্রতিবাদী পদযাত্রার কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *