অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: বাঘিনী আনতে রবিবার বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছে বক্সা টাইগার রিজার্ভের (Buxa Tiger Reserve) বনকর্মী ও পশুচিকিৎসকদের ১৫ জনের বিশেষ দল। তবে ওই দলের সদস্যরা প্রথমবার এই ধরনের কাজে অংশ নেওয়ায় বক্সা টাইগার রিজার্ভকে সহযোগিতার জন্য সুন্দরবনের অভিজ্ঞ বনকর্মীদের একটি দলকে বিহারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বন দপ্তর। সহযোগিতা করছেন ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির সদস্যরাও। ওই দুই সংস্থার প্রতিনিধিরাও বিহারে যাচ্ছেন।
আগামী ২ অক্টোবর বক্সায় বাঘিনী ছাড়া হবে। এই মুহূর্তে বন দপ্তরের ব্যস্ততা চরমে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ চার থেকে পাঁচটি বাঘিনীর বায়োডেটা তৈরি করে রেখেছে। এখন বাঘিনী চিহ্নিত করা বাকি। সুন্দরবনের দলের থেকে সেই পরামর্শ নেওয়া হবে। সুন্দরবনের বনকর্মীরা বাঘেদের চরিত্র ভালো জানেন। বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি সামলেছেন। তাই সুন্দরবনের বনকর্মীদের ভূমিকা অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বক্সায় বাঘ ফেরাতে।
বক্সা টাইগার রিজার্ভের দলটিকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। বক্সা টাইগার রিজার্ভের এক বনকর্তা বলেন, ‘রবিবার বনকর্মীদের দল বিহারে পৌঁছে বিভিন্ন কাজ করবেন। প্রথমে বাঘ চিহ্নিত করা হবে। এরপর সেটিকে খুঁজে বের করে ঘুমপাড়ানি গুলি দিয়ে কাবু করতে হবে। তারপর নিয়ে আসার পালা।’ এই পুরো কাজ ১০-১৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে রুটম্যাপ তৈরি করছে বন দপ্তর। সমস্ত কাজে নজর রাখা হচ্ছে। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির একটি প্রতিনিধিদল আবার বক্সাতেও আসছে। বাঘ ছাড়ার জন্য কী কী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য।
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমেই ওই প্রতিনিধিদলের আসার কথা ছিল। তবে দলটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আসবে বলে জানানো হয়েছে। ওই দল এসে নতুন কিছু পরামর্শ দিলে তা দ্রুত করতে হবে। কারণ হাতে সময় অনেকটাই কম। বাঘিনী ছাড়ার আগে হাতে সময় বলতে আর তিন সপ্তাহ। তাই ওই দল নতুন কোনও নির্দেশ দিলে তা আগেভাগেই শেষ করতে চায় বক্সা টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর আর নতুন কোনও কাজ বাকি রাখতে চাইছেন না বনকর্তারা। বক্সা টাইগার রিজার্ভের যে দলটি বাঘিনী আনতে যাবে, সেটি পুরোপুরি তৈরি। দলের ১৫ জন সদস্যের প্রশিক্ষণ হয়েছে।

