উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পারস্য উপসাগরের ‘তৈল ধমনী’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীর (Hormuz Strait) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে টানাপড়েন এখন ‘হয় এসপার নয় উসপার’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, যে কোনও মূল্যে হরমুজ প্রণালীকে ইরানের হাত থেকে মুক্ত ও নিরাপদ করা হবে। এই লক্ষ্যপূরণে এবার চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্র ও প্রভাবিত দেশগুলিকে ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান ইতিমধ্যেই সামরিকভাবে বিপর্যস্ত এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে খতম করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে ইরান মাইন, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, “ওদের মাথা আমরা ইতিমধ্যেই কেটে ফেলেছি, কিন্তু অবশিষ্টাংশ যাতে কোনও অঘটন ঘটাতে না পারে, তার জন্য মিত্র দেশগুলোর উচিত জলপথ রক্ষায় নিজেদের রণতরী পাঠানো।” তিনি আরও জানান, আমেরিকা সমুদ্র থেকে ইরানি জাহাজগুলিতে অবিরাম বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করে তুলবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ইরানের রণকৌশলে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় প্রবল চাপের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প বিতর্কিতভাবে রুশ তেল কেনায় ছাড়পত্র দিলেও ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেবে আমেরিকার আধিপত্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মিত্রশক্তিদের রণতরী পাঠানোর এই আহ্বান আসলে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর একটি মরিয়া চেষ্টা। এখন দেখার, ট্রাম্পের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্রিটেন বা ফ্রান্সের মতো দেশগুলি সরাসরি পারস্য উপসাগরের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে কি না।
