শক্তিপ্রসাদ জোয়ারদার, কিশনগঞ্জ: কিশনগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লাইনপাড়া বুড়ি কালী মন্দির (Buri kali temple) এবার ১২৫তম বর্ষে পা দিল। এই বিশেষ লগ্নকে ঘিরে উৎসবের প্রস্তুতি এখন একেবারে তুঙ্গে। উৎসবের নিরাপত্তা এবং সার্বিক বন্দোবস্ত খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার মন্দির চত্ত্বরে উপস্থিত হন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সিরাজ খুসরু। পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমারের বিশেষ নির্দেশেই তিনি সেখানে যান। মন্দিরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ পরিদর্শনের পাশাপাশি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ আধিকারিক ও মন্দির কমিটির সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই উৎসব যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি দায়বদ্ধ।
১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন মন্দিরটি ঘিরে ভক্তদের মনে এক গভীর ধর্মীয় আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, ভিন রাজ্যের বহু ভক্তও এখানে ভিড় জমান। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দিরে মা কল্পতরু এবং তিনি সবার মনোবাসনা পূর্ণ করেন। দক্ষিণবঙ্গের বিখ্যাত বোল্লা কালী মন্দিরের মতোই এখানে একটি বিশেষ রীতি প্রচলিত রয়েছে। ভক্তদের মানত পূর্ণ হলে কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে মৃন্ময়ী প্রতিমা দান করার প্রথা রয়েছে এই মন্দিরে। তবে মন্দিরের সচিব ভিক্কি দাস জানিয়েছেন যে, ভক্তদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে আগামী ২০৬২ সাল পর্যন্ত প্রতিমা দেওয়ার নাম ইতিমধ্যেই নথিবদ্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন মানত পূর্ণ হলে কাউকে মানত পূরণের প্রতিমা দিতে গেলে ২০৬৩ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মন্দিরের রেজিস্টারে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ক্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী দাতার নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। এছাড়া এই প্রাচীন মন্দিরে বলিদান প্রথাও চালু রয়েছে।
এই ঐতিহ্যশালী মন্দিরের মহোৎসবকে আরও বর্ণময় করে তুলতে রাজ্য সরকারের ভূমি ও রাজস্ব মন্ত্রী ডক্টর দিলীপ জয়শোয়ালের নির্দেশ পুজো, সজ্জা, মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। এ বছরের আয়োজনে শ্যামা সঙ্গীত, বাউল গান, ভজন সন্ধ্যা এবং অন্নকূট উৎসবের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, এই প্রথমবার জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তদারকিতে কার্তিক অমাবস্যার পুজো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। উল্লেখ্য, এই ঐতিহাসিক মন্দির দর্শনে প্রায়শই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আগমন ঘটে থাকে।

