উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে কালীঘাটগামী তৃণমূলের মিছিলে হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। বুধবার মিছিলে হামলার অভিযোগে বিজেপিকে নিশানা করার পাশাপাশি, আহত কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানোর সময় বিশৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মেজাজ হারানোর ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিড় সামলাতে গিয়ে দলেরই কর্মীদের গায়ে হাত তোলা ও চড় মারার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন পুলিশের উপস্থিতিতেই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। দোলা সেন ও আইটি সেলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। জখম কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য কালীঘাটে তাঁর বাসভবনের সামনে হুড়োহুড়ি ও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
আহতদের গাড়িতে তোলা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে মাঠে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিড় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক কর্মীর গালে সপাটে চড় কষান। যদিও তৃণমূল সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি দলেরই কর্মী। বিশৃঙ্খলা সামলাতেই ‘দিদি’ তাঁকে ‘শাসন’ করেছেন। এছাড়া ভিড় সামলানোর সময় আরও কয়েকজনের পিঠে চাপড় মারতেও দেখা যায় তাঁকে।
সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীদের রক্তের সম্মান দিন।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ উদ্ধারকার্যে সাহায্য করেনি। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “উনি রাজনৈতিক নেত্রী এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাস্তায় হাঁটছেন, হাঁটুন। উনি তো চিরকাল হাঁটার মধ্যেই ছিলেন, এখন বসে যাবেন কেন?”
মিছিলে হামলা এবং তারপর নেত্রীর মেজাজ হারানোর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের দিকে আক্রমণ শানিয়েছে। আহত কর্মীদের সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি, মিছিলের বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

