২০১১ সালের পরিবর্তনের ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিল হুগলির সিঙ্গুর! দীর্ঘ ১৫ বছরে টাটাদের থেকে জমি ফেরত পেয়ে শুধু সর্ষে ফুলই ফুটেছিল। জমি হারায় উর্বরতা। নতুন করে চাষ হয়নি। এদিকে শিল্পও আসেনি। বদলের বাংলা জমিনীতি সামনে আসতেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে হুগলির সিঙ্গুর। রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, “সিঙ্গুর নিয়ে কিছুটা একটা করব।” তারপরই জানালেন, সিঙ্গুরে সাড়ে ছয়শো কোটির বিনিয়োগের আলোচনা চলছে। অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হচ্ছে। তাহলে কি সিঙ্গুরে সেই গাড়ি শিল্পই? এখনই স্পষ্ট উত্তর না মিললেও আশায় বুক বাঁধছে সিঙ্গুর।
গত ১৫ বছরে শিল্পপতিরা বাংলায় আসেননি, কর্মসংস্থানও হয়নি। বাংলা ছেড়েছেন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী।বাংলার নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে শোনা গিয়েছে কর্মসংস্থানের কথা। ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকারে মূল লক্ষ্য রাজ্যে শিল্প নিয়ে আসা। বদলের বাংলা বেশ কয়েকটি জায়গায় লগ্নি এসেছে। তাতে আশার আলো দেখছে সিঙ্গুর। বৃহস্পতিবার শিল্পনীতি ঘোষণা লগ্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন সিঙ্গুরের কথা তিনি ভুলে যান নি। বলেন, “সিঙ্গুরের কথা মাথায় আছে। সিঙ্গুর নিয়ে কিছুটা একটা করব। অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার শিল্প-খরা কাটাতে তৃণমূল আমলের ভুলভ্রান্তি শুধরে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইকো পার্ক থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’ সম্বলিত একটি বই উদ্বোধন করেন তিনি। জানানো হয়েছে, জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করেছে শুভেন্দু সরকার। পাশাপাশি ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করা হবে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত শিল্পনীতির মূল ভিত্তি ইনসেনটিভ। এদিকেই তাকিয়ে ছিলেন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পমহল। বিদ্যুৎ শুল্ক ও স্টাম্প ডিউটিতে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বৃহৎ শিল্প, অলাভজনক সংস্থা, পরিষেবা ক্ষেত্র – সবই এই নীতির আওতায় পড়বে।
সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো বলপ্রয়োগ করে জমি অধিগ্রহণের বদলে বাজারমূল্যে জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি জমি কেনার পক্ষে বর্তমান বিজেপি সরকার, যা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের নতুন জমিনীতি মেনে ঠিক কোন পদ্ধতিতে কাজ হবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশিত হয়েছে এদিন। জানা গিয়েছে, অনলাইনে শিল্পপ্রস্তাবের ক্ষেত্রে ১০৫ দিন বা সাড়ে তিন মাসে গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। তারপরই রাজ্যে শিল্প তৈরির কাজ শুরু করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। জোর দেওয়া হবে রুগ্ন শিল্প পুনরুজ্জীবনেও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
